ঝালকাঠিতে তীব্র আকার ধারণ করেছে বিশখালী নদীর ভাঙন। কয়েক বছরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে অনিশ্চতায় পড়বে বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। শুধু বিদ্যালয় ভবনই নয়, আশপাশের শতাধিক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, ১৯৭০ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। ২০১৪ সালে বিদ্যালয়ের চারটি কক্ষ নদীতে ভেঙে গেছে। এছাড়া বাদুড়তলা লঞ্চ টার্মিনাল ও এর আশপাশের সড়ক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাদুড়তলা বাজারের অধিকাংশ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি, কয়েকটি বিদ্যালয় ও বাদুড়তলা জামে মসজিদসহ বেশকিছু স্থাপনা। এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে ৩০০ একর ফসলি জমি।
পুখরীজানা গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুব মৃধা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি হারিয়েছি। এখন আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। এভাবে নদীভাঙন চলতে থাকলে আমাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না।’
এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুনীল চন্দ্র সেন বলেন, ‘বিদ্যালয়টি স্থানান্তর হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তথ্য উপাত্ত পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি অন্য স্থানে জমি দেখেছে, সেখানে স্থানান্তর হবে।’
নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ব্যাপারে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিষখালী নদীর ভাঙনকবলিত ওই স্থান সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা পরিদর্শন করেছেন। আমরা একটা সার্ভে করব। পরে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’










