জলবায়ু সংকট সৃষ্টিতে বাংলাদেশের অবদান নগণ্য হলেও এর পরিণতির দিক থেকে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে।’
গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘পারসুইং ক্লাইমেট জাস্টিস থ্রু ক্লাইমেট ডিপ্লোমেসি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অ্যাকশন ফর পলিটিক্যাল এমপাওয়ারমেন্ট, ব্রাইটার্স, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা সর্বোচ্চ ২ মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশের ১৮-৩০ শতাংশ ভূমি স্থায়ীভাবে পানিতে তলিয়ে যেতে পারে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। এরই মধ্যে এর প্রভাবও দেখা যাচ্ছে। ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশে ২ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে ইন্টারন্যাশনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টারের এক প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘জলবায়ু বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন ঢাকায় আসছে। তারা শুধু ঘরবাড়ি নয়, পুরো অর্থনৈতিক ভিত্তিও হারিয়েছে। বাড়তে থাকা লবণাক্ততা খাদ্যনিরাপত্তা ও পানির নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করছে। এটি জলবায়ু অবিচারের মানবিক চিত্র।’
তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিকভাবে জলবায়ু সংকট মোকাবেলার উদ্যোগ এখনো মৌলিকভাবে ভারসাম্যহীন। কপ২৭-এ সম্মত এবং কপ২৮-এ কার্যকর করা লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডের প্রতিশ্রুত অর্থ বাস্তবে পৌঁছানো ও সহজলভ্য হওয়ার ক্ষেত্রে ধীরগতি রয়েছে। একই অবস্থা গ্লোবাল ক্লাইমেট ফান্ডসহ অন্যান্য জলবায়ু তহবিলের ক্ষেত্রেও।’
জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে এমন সংকট মোকাবেলায় নতুন করে ঋণের বোঝা নেয়া উচিত নয়, যে সংকট তারা সৃষ্টি করেনি। ঋণের পরিবর্তে অনুদান আকারে অর্থায়ন দিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোজন অর্থায়নকে প্রশমন অর্থায়নের সমান গুরুত্ব দিতে হবে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্ব পদক্ষেপ নেয়ার অপেক্ষায় নেই। নিজেদের স্থিতিস্থাপকতায় এরই মধ্যে বিনিয়োগ করছে। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগ সংকটের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী পক্ষগুলোর দায়িত্বের বিকল্প হতে পারে না।’
জ্যেষ্ঠ সম্প্রচার সাংবাদিক হাবিব রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের নেতারা অংশ নেন।









