সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তিনি ৬৯ হাজার ১২৯ ভোটের ব্যবধানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুলকে হারিয়েছেন। সিলেট জালালাবাদ গ্যাস অডিটরিয়ামে স্থাপিত ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে গতকাল রাতে ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সল কাদের। তিনি জানান, নির্বাচনে ৪৬ দশমিক ৭১ ভাগ ভোট প্রয়োগ হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৯১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নজরুল ইসলাম বাবুল লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৮৬২ ভোট। তৃতীয় হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়া (বাস) ২৯ হাজার ৬৮৮ ভোট। ভোট বর্জনকারী ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা) ১২ হাজার ৭৯৪ ভোট।
গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সল কাদের। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। এ অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
বিজয়ী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ বিজয় সাধারণ জনগণের। এ বিজয় আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মীদের। আওয়ামী লীগের কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিল বলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিজয় উপহার দেয়া সম্ভব হয়েছে। এ বিজয়ের মাধ্যমে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের অবস্থান পুনরুদ্ধার হয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। দল নির্বাচনে না যাওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। আরিফুল হক গত দুই মেয়াদে মেয়র ছিলেন। এবার নির্বাচনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের জয়েন্ট সেক্রেটারি আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মেয়র হিসেবে জয়লাভ করেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ২৩৬ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৮৭ জন। ৪২টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ২৯৪ জন এবং ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৮৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।










