দেশজুড়ে নতুন করে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশে কভিড-১৯ আক্রান্তের ব্যাপকতা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি বাড়ছে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যাও। এমন পরিস্থিতিতেও দিনাজপুরের হিলিতে মানা হচ্ছে না কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি। বিশেষ করে এখানকার মানুষের মাঝে মাস্ক ব্যবহারের প্রবণতা একদমই কম। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। হাটবাজার ও বন্দর এলাকায় মানুষের ভিড় ও অসচেতনতা হিলিতে সংক্রমণের হার বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

জানা যায়, স্বাস্থ্য বিভাগের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে দিনাজপুর জেলার মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার সবচেয়ে কম ছিল হিলিতে। কিন্তু পরবর্তী সময় প্রশাসনের ঢিলেঢালা ভাব, নজরদারি না থাকা ও স্থানীয়দের স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং মাস্ক ব্যবহারে অনিহার কারণে সংক্রমণের হার বাড়তে থাকে। করোনা সংক্রমণ শুরু থেকে এ পর্যন্ত হাকিমপুর উপজেলায় ৮৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়, যা এখন পর্যন্ত জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাকিরা সুস্থ আছেন। এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে বর্তমানে মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা আবারো সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

হিলি বাজারে পান নিয়ে আসা কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, মাস্ক ব্যবহার করি, কিন্তু পানের বরজ থেকে দ্রুত হাট ধরতে পান নিয়ে সরাসরি হাটে চলে আসছি, যার কারণে ভুল করে মাস্ক ছেড়ে চলে আসছি। তার মতো হাটে আসা অধিকাংশ মানুষেরই বক্তব্য মাস্ক আছে, কেউবা বাড়িতে ভুলে ফেলে এসেছেন, কেউবা দোকানে রেখে এসেছেন, কারোবা মনে নেই, আবার কেউ কেউ গরম লাগার কারণে খুলে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

বাজার করতে আসা মোস্তাকিম হোসেন বলেন, আগে বাজারে এলে মুখে মাস্ক পরতাম। কিন্তু এখন তো আর করোনা নেই, ফলে মাস্ক ব্যবহার করি না। আল্লাহ পাকের রহমত আছে, আমাদের করোনা ধরবে না।

স্থানীয় আজম খান বলেন, আগে বাজারের বিভিন্ন দোকানে মাস্ক না পরে এলে পণ্য বিক্রি করত না। তাছাড়া প্রশাসনের কড়া নজরদারির কারণেও মানুষ মাস্ক ব্যবহার করত। ফলে হিলিতে করোনা সংক্রমণের হার অনেক কম ছিল। কিন্তু এখন মানুষ কোনো নিয়মই মানছে না। মুখে মাস্ক ব্যবহার করছে না। গাদাগাদি করে চলাফেরা করছে।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব যেন এ উপজেলায় বিস্তৃতি লাভ করতে না পারে, সেজন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে দ্রুতই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।