পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেছেন, একসময় পার্বত্যাঞ্চলে জনসংখ্যা ছিলো কম,ভূমি অঢেল। এ বছর এখানে, পরের বছর আর এক জায়গায় জুম চাষ করা হতো। এখন জনসংখ্যা বেড়ে গেলো। বন রক্ষা করতে গিয়ে বন বিভাগ বনের জায়গা সংরক্ষণ করল। ব্যক্তি পর্যায়ে ভূমি লিজ দেয়া, বন্দোবস্তি সবকিছু মিলে বন উজাড় করে ফেলেছি। পৃথিবীকে অক্সিজেন সরবরাহ করা পরিবেশ, বৃক্ষের উপর আমরা হাত দিয়েছি। বৃক্ষ ফল দেয়, ফুল দেয়। যেখানে বৃক্ষ আছে সেখানে ছায়া আছে, পানি আছে। এখন প্রায় জায়গায় বট গাছও নাই। পাখি থাকবে কোথায়। পাহাড়ে আগে ছনের ঘর ছিলো। কিন্তু এখন ছন নাই, বাঁশ নাই, গাছ নাই। পানির উৎস, জলাশয় কোত্থেকে থাকবে। পানি থাকলেই তো জলাশয় থাকবে। এজন্য পরিবেশকে রক্ষা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নাই। আমাদেরকে অধিক গাছ লাগাতে হবে। 

গতকাল সকালে জেলা শহরের অরুন সারকি টাউন হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইউএনডিপির ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন জোরদার করণ’ প্রকল্পের সহযোগিতায় বান্দরবান বন বিভাগ আয়োজিত ‘ইউএসএইড’স এর পার্বত্য চট্টগ্রামে জলাশয় সহ-ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম’ এর স্ট্যাকহোল্ডারদের নিয়ে পরামর্শ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কাউছার হোসেন বলেন, অবৈধ পাথর উত্তোলনসহ পরিবেশ বিনষ্টকারী বিভিন্ন কার্যক্রমের কারণে পাহাড় পানি ধরে রাখতে পারছে না। ফলে প্রাকৃতিক পানির উৎসগুলো নিশ্চিহ্ন হচ্ছে, নদী নাব্যতা হারাচ্ছে, পাহাড়ী জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীতে পানি কমে গেছে। শুধু বালি আর বালি। পরিবেশ রক্ষার জন্য বন বিভাগের পাশাপাশি হেডম্যান, কারবারি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোসহ সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান মন্ত্রী। 

পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগ বান্দরবানের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন বন বিভাগ বান্দরবানের ডিএফও হক মাহমুদ মোরশেদ, লামা ডিএফও আরিফুল হক বেলাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজিম উদ্দিন, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মাসুদুর রহমান রুবেল। এসময় জনপ্রতিনিধি, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্ট্যাকহোল্ডারসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।