এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ) উদ্যোগের
আওতায় ইউরোপে পণ্য রফতানিতে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত যে সুবিধা পায়, তা
ধরে রাখতে বেশকিছু কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে
সরকার। এই কর্মপরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে
ন্যূনতম ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ ছয় বছর সময় চেয়েছে বাংলাদেশ।
পরিদর্শন কার্যক্রম জোরদারে শ্রম ও
কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে (ডিআইএফই) ১
হাজার ৫১৪ পরিদর্শক পদ সৃষ্টির ঘোষণা রয়েছে। এটি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা
চেয়েছিল ইইউ। শুধু পরিদর্শক নিয়োগ নয়,
বাংলাদেশে শ্রম ও মানবাধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত
বিভিন্ন ঘাটতি পূরণে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে সময়াবদ্ধ বাস্তবায়ন কর্মসূচি গ্রহণ
করতে সরকারকে চাপ দিয়ে আসছিল তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়গুলো নিয়ে নানা
প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ।
গত বছরের ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সফরে
আসে ইবিএ পর্যবেক্ষকদের একটি দল। সফরের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল, বাংলাদেশে
প্রচলিত শ্রম আইনের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সামঞ্জস্য বিধানে হালনাগাদ আইন
সংস্কার পর্যালোচনা। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল,
অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা জেনারালাইজড
স্কিম অব প্রেফারেন্সের (জিএসপি) অধীনে আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সঙ্গে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি
পর্যালোচনা। পর্যবেক্ষক দলটি ২১ অক্টোবর বাংলাদেশে অবস্থান করে। সফর শেষে গত
ডিসেম্বরে তাদের পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশকে জানায় ইইউ।
জানা গেছে, বাংলাদেশ
সফরকালে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে মতবিনিময়ের পর শ্রম অধিকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু
বিচ্যুতি চিহ্নিত করেছে ইইউ প্রতিনিধি দলটি। ফলে বাংলাদেশে শ্রম অধিকার চর্চার
শক্তিশালী মান নিশ্চিতে একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে চুক্তির দিকে
অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয় ইইউ থেকে। সেই পরামর্শ অনুসরণ করেই গত ২ জানুয়ারি
চিহ্নিত বিচ্যুতি দূর করতে ন্যূনতম ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ ছয় বছরের সময়সীমা চেয়েছে
বাংলাদেশ সরকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রম ও
কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কেএম আলী আজম বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা
আজই (২
জানুয়ারি) ইইউতে কর্মপরিকল্পনা পাঠিয়েছি। প্রতিটি কম্পোনেন্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন
সময় প্রস্তাব করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সময় চেয়েছি ২০২৫, এটা শিশুশ্রমের ক্ষেত্রে। এছাড়া
কোনোটিতে ছয় মাস, কোনোটিতে এক বছর সময় চাওয়া হয়েছে। অনেকগুলো কম্পোনেন্ট দেয়া হয়েছিল, সবগুলোর
জন্যই আমরা সময়সীমা চেয়েছি। কেননা
কম্পোনেন্টগুলোর সঙ্গে বেপজা,
বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অনেক
প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
শ্রম অধিকার সংক্রান্ত যে বিষয়গুলোর জন্য সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ইইউ থেকে চাওয়া হয়েছে তার মধ্যে আছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সুপারিশ অনুযায়ী বাংলাদেশ শ্রম আইন, শ্রম বিধিমালা ও ইপিজেড শ্রম আইন সংশোধন, শিশুশ্রম নিরসন, শ্রমিকের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন বাধা দূর করা, শ্রম বিরোধ ও মামলা জট কমানো, শ্রম অভিযোগ নিষ্পত্তির পদ্ধতি উন্নয়ন এবং পরিদর্শকের ঘাটতি দূর করা।
সরকারি ও বেসরকারি সূত্রগুলো বলছে, ২০১৭
সালের শেষভাগ থেকেই ইইউর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শ্রম সংক্রান্ত ইস্যুগুলো কমপ্লাই না
করলে বাংলাদেশের জিএসপি থাকবে না। জিএসপি স্কিমের আওতায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা
বাংলাদেশ নিচ্ছে। এ সুবিধার ফল সমাজের সবাই সমানভাবে পাচ্ছে কি না, সে
বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ইইউ সংসদে।
২০২৪ সালে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলে
বাংলাদেশের জন্য ইবিএ সুবিধা থাকবে না। তখন বাংলাদেশকে জিএসপি প্লাসের আওতায়
বাণিজ্য সুবিধা আদায় করতে হবে। জিএসপি প্লাসের শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ওই সুবিধার
জন্য এখনো উপযুক্ত নয়। বাংলাদেশকে অনুরোধ করতে হবে। একই সঙ্গে ইইউকেও বাংলাদেশকে
জিএসপি সুবিধার আওতায় রাখতে শর্তে পরিবর্তন আনতে হবে।









