নরসিংদীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পর সহিংসতায় দুজন নিহত হয়েছেন। তিন পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন আরো ২২ জন। রোববার রাতে রায়পুরা উপজেলার চান্দেরকান্দি ও উত্তর বাঘারনগর ইউনিয়নে পৃথক ঘটনা দুটি ঘটে। 

নিহতরা হলেন- যোশর জাঙ্গারটেক গ্রামের আরিফ (৩২) ও উত্তর বাখরনগরে ফরিদ মিয়া (৩২)। 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের দাইরের পার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার পর এক প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় তার পক্ষের অর্ধশতাধিক সমর্থক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় সরকারি মালামাল ও ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ সদস্য জানমাল রক্ষার্থে ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালান। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও এলোপাতাড়ি গুলিতে পুলিশের রিকুইজিশন করা অটোরিকশার ড্রাইভার আরিফ নিহত হন। 

পরে গ্রামবাসী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশ ও আনসার বাহিনীর এক সদস্যসহ ১০ জন আহত হন। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

অপরদিকে উত্তর বাখরনগর ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে ভোট গণনা নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় দুই প্রার্থীর কথা কাটাকাটি ও হাতাহতির ঘটনা ঘটে। এ সময় দুপক্ষের সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এতে দুপক্ষের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এ সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ফরিদ। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক খান জানান,  ফরিদের লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসা হবে। সংঘর্ষের ঘটনায় বাখরনগর ইউপিতে দুই পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন আহত হয়েছেন, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, হট্টগোলের খবর পেয়েছি। দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষ ঘটা এলাকাগুলোয় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।