জরুরি প্রয়োজনে জারি করা এসব অধ্যাদেশ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে এক সপ্তাহের মধ্যে সংসদের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনে গতকাল কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ এ কমিটির বৈঠকে যোগ দেয়ার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাগুলোকে তারা ধারণ করবেন। কিছু অধ্যাদেশ আছে, যেখানে জুলাই যোদ্ধাদের যে নামে অভিহিত করা হয়েছে এবং গণ-অভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন ও অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের ইনডেমনিটি দেয়ার বিষয় আছে, সেগুলোকে তারা গ্রহণ করবেন। আরো কিছু বিষয় আছে। যেমন বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছিল তাদের নেতাদের নামে, বিভিন্ন নামে, সেগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে, এগুলোকে তারা গ্রহণ করবেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আরো অনেক অধ্যাদেশ রয়েছে। সেগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে কোনটা কীভাবে গ্রহণ করা যায়, কোনটা সংশোধনীসহ গ্রহণ করা যায়, আবার কোনটায় পরে আরো সংশোধনী আনতে হবে, সেটা সেভাবেই ফয়সালা করতে হবে। সময় সংক্ষিপ্ত, ৩০ দিনের মধ্যে এসব ফয়সালা করার বাধ্যবাধকতা আছে। প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ বসেছিল। পরবর্তী অধিবেশন ২৯ মার্চ। এর মধ্যে ১৫ দিনের মতো সময় অতিবাহিত হয়ে যাবে। বাকি ১৫ দিনের মধ্যে যা করা যায়, তার ব্যবস্থা করবেন বলেও জানান তিনি।

বিশেষ কমিটির বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়। সবক’টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে এ কমিটিকে সংসদে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

এদিকে বৈঠক শেষে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিশেষ পরিস্থিতিতে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এ অধ্যাদেশগুলো জনস্বার্থ ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে কতটুকু কার্যকর, তা যাচাইয়ের জন্য সংসদ থেকে এ বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রথম বৈঠকে অর্ধেকেরও কম অধ্যাদেশ পরীক্ষা করা হয়েছে। কিছু বিষয়ে সদস্যদের ভিন্নমত রয়েছে, যা নিয়ে পরবর্তী সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে। যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পর সম্ভবত এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রতিবেদনটি সংসদে ভোটিং ও পাসের জন্য উত্থাপিত হতে পারে।’

সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি জানান, কমিটির কাজ দ্রুত শেষ করতে আজ বুধবার বেলা ২টায় আবারো দ্বিতীয় বৈঠক ডাকা হয়েছে। যদি এর মধ্যে সব অধ্যাদেশ যাচাই শেষ না হয়, তবে প্রয়োজনে আরো বৈঠক করা হবে। তবে আগামী ২ এপ্রিলের আগেই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ করে সংসদের কাছে উপস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি অধ্যাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলেও জানান সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমদ, মো. নুরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এএম মাহবুব উদ্দিন, আবদুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির ও ফারজানা শারমীন। এছাড়া রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মো. মজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান ও জিএমএম নজরুল ইসলাম। মির্জা আব্বাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকায় গতকালের বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি।