গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিসকক্ষে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কে যে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার সময় এসেছে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বা উত্তরণ পেছানোর প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের জোগান নিশ্চিত করা—সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে ১১ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, যা আমরা হাইকমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেছি। আমরা আলোচনা করেছি কীভাবে আগামী দিনে এ বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরো সহজ ও ভালো করা যায়।’
মন্ত্রী আরো জানান, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পেছানোর বিষয়ে যে চিঠি দেয়া হয়েছিল, সেটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভারত এ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতামূলক অবস্থানে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়বে, যা আমাদের ওপরও আসতে পারে। তবে আশার কথা হলো দেশে বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও জোগান রয়েছে।’
বৈঠক শেষে প্রণয় ভার্মা বলেছেন, ‘আমাদের কোনো সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি, তবে অবশ্যই এ সবই আমাদের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক আলোচনার অংশ। আমাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য স্থলবন্দর গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া নতুন অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে নতুন প্রেক্ষাপটে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি রয়েছে।’
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। আমি নতুন সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার এবং আমাদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং সব ক্ষেত্রে আমাদের জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা, পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং দূরদর্শী উপায়ে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে শক্তিশালী করার সদিচ্ছা প্রকাশ করেছি। আমাদের দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী বাণিজ্য, অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। আমরা এটি এগিয়ে নেয়ার উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি, কীভাবে আমরা দুই দেশের বিভিন্ন খাতে ব্যবসায়ীদের একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হওয়া সহজতর করতে পারি এবং কীভাবে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি যাতে আমাদের ভৌগোলিক ঘনিষ্ঠতা এবং দুই দেশের মধ্যকার নৈকট্যকে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তরিত করা যায়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ও বাংলাদেশ উভয়ই এ অঞ্চলের বৃহত্তম অর্থনীতি। এগুলো অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী অর্থনীতি। তাই আমাদের একসঙ্গে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যৎ সহযোগিতাকে আমাদের নিজ নিজ জাতীয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আরো দূরদর্শী ও ভবিষ্যৎমুখী করে এবং আমাদের অর্জনগুলোকে ব্যবহার করে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে পরিচালিত করার সুযোগ রয়েছে। যাতে করে আমরা আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে পারি এবং আমাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ গভীরতর করতে পারি।’
অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি, বন্দর বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘আমাদের কী ধরনের কৌশল থাকা উচিত, অবশ্যই তা দুই পক্ষের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত। আমাদের অত্যন্ত মৌলিক আলোচনা হয়েছে তবে উদ্দেশ্য হলো আমাদের ব্যবসা, অর্থনীতি এবং বিনিয়োগের উন্নয়নে নিবিড়ভাবে কাজ করার সদিচ্ছা জানানো।’
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) মো. আবদুর রহিম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।










