নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় গুমাই নদীতে বালুবাহী বলগেটের ধাক্কায় যাত্রীবাহী একটি ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বরখাপন ইউনিয়নের রাজনগর গ্রাম সংলগ্ন গুমাই নদীতে বালুবাহী বড় নৌকার ধাক্কায় যাত্রীবাহী ট্রলারটি ডুবে যায়। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থেকে সকালে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি কলমাকান্দা হয়ে নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু, তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষ। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তাদের মধ্যে একজন বাদে সবার বাড়ি ধর্মপাশার মধ্যনগর থানার কামাউড়া গ্রামে। 

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সোহেল রানা জানান, বালুবোঝাই বড় নৌকার ধাক্কায় ৩০-৩৫ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রলার ডুবির পর সাঁতরে পাড়ে উঠেছেন এবং ট্রলার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আট জনকে। ট্রলারে থাকা যাত্রীদের মতে ১০-১৫ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তাদের উদ্ধারে ময়মনসিংহ থেকে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে আসার কথা থাকলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা এসে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে পারেনি।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী জানান, ট্রলাডুবিতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কয়েকজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করেছে । ঘটনাস্থল থেকে ট্রলারটি উদ্ধার করা করা হয়েছে, ভেতরে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মো. কাজী আব্দুর রহমান বলেন,আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছি বড় ট্রলারটিতে খুব বেশি যাত্রী ছিল না। বলগেটের চালক এবং ট্রলার চালকের অদক্ষতায় এতগুলো প্রাণহানী ঘটেছে। ট্রলার ডুবির ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, মৃত ব্যক্তিদের দাফন জন্য প্রত্যেক পরিবারের মাঝে জেলা প্রশাসন থেকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়েছে।