এসএমই খাতের সহায়তায় ক্রেডিট হোলসেলিং কার্যক্রমের আওতায় সম্প্রতি দেয়া ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভবিষ্যতে এ তহবিল ২০০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হবে।

রাজধানীর আগারগাঁও বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আজ ‘এসএমই বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেছেন।

বলা হচ্ছে, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং উৎসবের প্রাণকে একত্রিত করে এক অনন্য অভিজ্ঞতা উপহার দিতে প্রথমবারের মত সাতদিনের এ মেলার আয়োজন করছে এসএমই ফাউন্ডেশন। বিকালে মেলার উদ্বোধন করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

‘দেশের অর্থনীতির প্রাণ হচ্ছে এমএসএমই খাত’ উল্লেখ করে প্রধান অতিথির আলোচনায় মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এসএমই খাতের সহায়তায় সম্প্রতি বরাদ্দ দেয়া ৩০০ কোটি টাকা ১৫টি ব্যাংক ও ৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আজকে এখানে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলছিলেন যে এই ৩০০ কোটি টাকা যদি ২ হাজার কোটি টাকা হয় তাহলে এসএমই খাতের জন্য ভালো হবে। আমি উনাকে কথা দিয়েছি এই ৩০০ কোটি টাকার তহবিল ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হবে। আমরা এসএমই খাতের বিকাশ চাই। উত্তরোত্তর বিকাশ চাই।’

এসময় মন্ত্রী আরো বলেন, এসএমই খাতে বাংলাদেশে মোট আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক আকার তথা কর্মসংস্থান মাত্র ১৫ শতাংশ এবং বাকি ৮৫ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাত, যার বড় অংশজুড়ে রয়েছে এমএসএমই। তিনি বলেন, ‘এমএসএমই খাতের ধারাবাহিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকার সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করবে। উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা, অধিক সংখ্যক মানুষকে সম্পৃক্ত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এসব দায়িত্ব উদ্যোক্তাদের, আর সরকার থাকবে সহায়ক হিসেবে।’

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন এবং শিল্পসচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদ সদস্য সামিম আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

মেলায় দেড় শতাধিক স্টলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত এসএমই উদ্যোক্তারা হস্ত ও কারুশিল্প পণ্য, পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক ও ফ্যাশন সামগ্রী, কৃষিজ প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ঐতিহ্যবাহী পণ্য, হোমমেড খাবার ও স্ট্রিট ফুড, কৃত্রিম গয়না, চামড়াজাত পণ্য এবং সুগন্ধি ও লাইফস্টাইল পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করছেন।

আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকবে।