জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগে আটজন এবং শুল্ক (কাস্টমস) ও ভ্যাটে সাতজন সদস্যসহ মোট ১৫ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। গ্রেড-২ পদমর্যাদার এই পদটিতে উভয় বিভাগে তিনজন করে মোট ছয়জন গ্রেড-১ পদমর্যাদা পর্যন্ত পেয়ে থাকেন। বর্তমানে শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগে দুটি সদস্য পদ শূন্য রয়েছে এবং দুটি খালি হতে যাচ্ছে। আয়কর বিভাগে একটি সদস্য পদ বর্তমানে শূন্য এবং খালি হতে যাচ্ছে দুটি। সেই হিসেবে, মোট তিনটি সদস্য পদ শূন্য রয়েছে এবং আরো চারটি খালি হতে যাচ্ছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, শুল্ক রপ্তানি, বন্ড ও আইটি এবং শুল্ক: নিরীক্ষা, আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দপ্তরে সদস্য নেই। খালি রয়েছে এই দুটি দপ্তর। দপ্তর দুটির মধ্যে শুল্ক রপ্তানি, বন্ড ও আইটিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং শুল্ক: নিরীক্ষা, আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দপ্তরে অতিরিক্ত (ছুটি প্রতিস্থাপন) দায়িত্ব পালন করছেন ফারজানা আফরোজ। তার মূল দায়িত্ব শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসনে। অথচ তিনি একাই সামলাচ্ছেন কাস্টমসের তিনটি দপ্তর।

শুল্ক: নিরীক্ষা, আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দপ্তরের সদস্য গত ৩০ মে অবসরে গেছেন। তারপর থেকে এটি শূন্য রয়েছে। এছাড়া, মূসক নিরীক্ষার সদস্য ড. মো. সহিদুল ইসলাম আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে অবসরে যাচ্ছেন। কাস্টমস নীতি ও আইসিটির সদস্য মো. মাসুদ সাদিক আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে অবসরে যাচ্ছেন। সেই হিসেবে শুল্ক ও ভ্যাটে দুইটি সদস্য পদ শূন্য রয়েছে এবং দুটি খালি হতে যাচ্ছে। সাতটি সদস্য পদের মধ্যে তিনটি গ্রেড-১ পদমর্যাদার। এর মধ্যে বর্তমানে গ্রেড-১ পদমর্যাদার সদস্য রয়েছেন একজন, তিনি মাসুদ সাদিক।

এনবিআরের সূত্রে জানা গেছে, মঞ্জুরীকৃত ৩৬ জন কমিশনারের মধ্যে ৩৬ জনই কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন চলতি দায়িত্বে, অর্থাৎ তারা অতিরিক্ত কমিশনার হয়েও কমিশনার পদের দায়িত্ব পালন করছেন। শূন্য সদস্য পদের বিষয়ে গত ৬ জুন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে (আইআরডি) চিঠি দিয়ে জানিয়েছে এনবিআর। আইআরডি এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আয়কর বিভাগে আটটি সদস্য পদের মধ্যে তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সেবা দপ্তরটি শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া, কর আপিল ও অব্যাহতির সদস্য ইকবাল হোসেন ৩১ জুলাই অবসরে যাচ্ছেন। কর জরিপ ও পরিদর্শন সদস্য এম এম ফজলুল হক আগামী ডিসেম্বরে অবসরে যাচ্ছেন। সেই হিসেবে আয়কর বিভাগে একটি সদস্য পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে ও দুটি খালি হতে যাচ্ছে। 

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আয়কর বিভাগে মঞ্জুরীকৃত গ্রেড-১ পদমর্যাদার সদস্য তিন জন থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে একজনও নেই। সবশেষ ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি গ্রেড-১ পদমর্যাদায় তিনজনকে পদোন্নতি দেয়া হয়। তারা সবাই অবসরে চলে গেছেন। এই বিভাগে গ্রেড -১ ও গ্রেড -২ মিলিয়ে মোট সদস্য আটজন। এদের মধ্যে সাতজন গ্রেড -২ পদে কর্মরত আছেন। তবে দুজন সামনে গ্রেড -১ পদে পদোন্নতি পেতে পারেন বলে জানা গেছে।

আয়কর বিভাগে গ্রেড-৩ পদমর্যাদার কর কমিশনারের ২২টি পদ শূন্য রয়েছে। গ্রেড-৪ পদমর্যাদার অতিরিক্ত কর কমিশনারের ২৪টি, গ্রেড-৫ পদমর্যাদার যুগ্ম কর কমিশনারের ৫৬টি, গ্রেড-৬ পদমর্যাদার উপ-কর কমিশনারের ১০৭টি, গ্রেড-৯ পদমর্যাদার সহকারী কর কমিশনারের ৩২৭টি এবং গ্রেড-১০ পদমর্যাদার অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনারের ১৭৩টি পদ শূন্য রয়েছে।

আয়কর বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘একটি রাজস্ব সার্কেলে একজন উপ-কর কমিশনার ও একজন কর পরিদর্শক দিয়ে কাজ সামাল দিতে হয়। সার্কেলে জনবল আরো বাড়ানো দরকার।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সদস্য পদে চাকরির মেয়াদ এক বছর পার হলে গ্রেড-১ পদমর্যাদা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জিত হয়। পদ খালি থাকা সাপেক্ষে এই পদোন্নতি দেয়া হয়। এ ছাড়া সব সদস্য গ্রেড-২ পদমর্যাদা পেয়ে থাকেন।’