ঈদের
দিনেও ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়নের প্রতিবাদে ইসরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে
‘ফিলিস্তিন সংহতি কমিটি, বাংলাদেশ’। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে
এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
৭৫ বছর ধরে
ফিলিস্তিনের নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা, ভূমি দখল, উচ্ছেদ ও নিপীড়ন চালিয়ে ইসরায়েল
ফিলিস্তিনে দখলদারিত্ব বজায় রেখেছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে এর পেছনে মূল মদদদাতা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী দেশ। গত অক্টোবর থেকে পুনরায় নৃশংস গণহত্যা, ঘরবাড়ি, মসজিদ, গির্জা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয় কেন্দ্র ধ্বংস করে এবং তাদের খাদ্য-পানিসহ বেঁচে থাকার সব অবলম্বন বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল।
বক্তারা আরো বলেন, চূড়ান্তভাবে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ ও জাতিগত নিধন করতে যাচ্ছে। গাজায় নিহত হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার, আহত ৭৬ হাজার এবং ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে আরো সাত হাজার মানুষ। নিহতদের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার নারী ও শিশু। ১৭ হাজার শিশু এতিম, যাদের দেখাশোনার কেউ নেই। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারতসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিলেও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বের বিবেকবান মানুষ ইসরায়েলি গণহত্যা ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করছে। তারা গণহত্যা বন্ধের দাবিতে নিজ নিজ দেশের সরকারকে দায়ী করতে দ্বিধা করছে না।
সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা আব্দুল্লাহ আল কাফি বলেন, ‘গতকাল ফিলিস্তিনে ঈদ ছিল। পত্রিকায় দেখলাম ঈদের দিনেও সেখানে ১৫৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। গত ছয় মাসে প্রায় ৩৪ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে ঈদের নামাজের পরে সমবেত হয়েছি। ফিলিস্তিনিদের যে লড়াই সে লড়াইয়ের পাশে আছি আমরা।’
বাংলাদেশের
সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘স্বাধীন মাতৃভূমির জন্য
ফিলিস্তিনিদের যে লড়াই সে লড়াইয়ে আমরা তাদের পাশে আছি। ইসরায়েল ফিলিস্তিনে যা করছে
তা শুধু গণহত্যা নয়, এটা জাতিগত নিধন। আমরা আজকে ঈদ পালন করছি, কিন্তু ফিলিস্তিনে
গতকাল ঈদ ছিল, তারা সেটা পালন করতে পারেনি। তারা কোনো উৎসব পালন করতে পারে না। প্রতিদিন
প্রতিনিয়ত তারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে।’
তিনি আরো
বলেন, ‘ফিলিস্তিনে যে গণহত্যা ও জাতিগত নিধন আমরা তা অবিলম্বে বন্ধ চাই এবং অবিলম্বে
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মধ্য দিয়ে এ সংকটের সমাধান করতে হবে।’
বাংলাদেশ
ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রাগীব নাঈম বলেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় চলা গণহত্যার
বিপরীতে বিশ্বের মানুষ যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল আমরাও সেভাবে বিশ্বব্যাপী সব
দেশের ছাত্র-জনতাকে ফিলিস্তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’
আরো বক্তব্য দেন বাসদ (মার্কসবাদী) দলের সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফী রতন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু।










