দেশের ব্যস্ততম দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি থামার আগেই পুরো পন্টুন অটোরিকশার দখলে চলে যায়। এতে ফেরি থেকে যানবাহন নামায় বিলম্বের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। অথচ ফেরিঘাটের পন্টুনে কোনো ধরনের যানবাহন অবস্থান করার কথা নয়। তার পরও দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলে আসছে সবকটি ফেরি ঘাটে।

ঘাট সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়ায় সাতটি ফেরিঘাট থাকলেও বর্তমানে তিনটি চালু রয়েছে। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা সব ফেরি তিনটি ঘাটের পন্টুনে এসে থামে। তবে নিয়মের তোয়াক্কা না করেই দৌলতদিয়া ঘাটের পন্টুনে অবস্থান করে অটোরিকশা। ফেরি পন্টুনে থামার আগেই তা অটোরিকশার দখলে চয়ে যায়।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত পন্টুন ইনচার্জ মো. রাজু হাওলাদার জানান, পন্টুনে অটোরিকশা অবস্থান করায় ফেরিতে যানবাহন লোড-আনলোডে অসুবিধা হয়। সেই সঙ্গে পন্টুনের শৃঙ্খলা রক্ষাও কঠিন হয়ে পড়ে। তারা সবসময়ই পন্টুন থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দিলেও চালকদের বেপরোয়া আচরণে পন্টুন জটমুক্ত রাখা যাচ্ছে না।

অটোরিকশাচালক আনোয়ার হোসেন জানান, ফেরি ঘাটের পন্টুনে না গেলে যাত্রী পাওয়া যায় না। এছাড়া স্থানীয় চালকরা না গেলেও বাইরে থেকে আসা চালকরা পন্টুনে চলে যায়। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যাত্রী পেতে পন্টুনে যান তারা।

ঢাকা থেকে আসা গোল্ডেন লাইন বাসের চালক লুৎফর রহমান বলেন, ‘পন্টুনের ওপর অটোরিকশা থাকলে ফেরি থেকে গাড়ি নামাতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দুর্ঘটনার আশঙ্কাও দেখা দেয়। অটোরিকশাচালকরা কোনো নিয়মকানুন জানে না।’

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘পন্টুন ফেরি ভেড়ানোর জন্য, সেখানে অন্য কোনো যানবাহনে যাত্রী উঠবে বা নামবে এটা কোনোভাবেই কাম্য না। এসব চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা পুলিশ ও নৌপুলিশের সহযোগিতা চেয়েছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে পন্টুনগুলো অবৈধ যানবাহন মুক্ত করা যাবে।’

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র জানান, ফেরি ঘাটের পন্টুন অটোরিকশাসহ অবৈধ যানবাহন মুক্ত রাখতে স্থানীয় প্রশাসন থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এখন থেকে আরো জোরাল অভিযান পরিচালনা করা হবে।’