ফরিদপুরে আঁখি আক্তার (১৯) নামে এক প্রসূতিকে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রক্তগ্রহণের পর ওই রোগী অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
প্রসূতির স্বজনরা জানান, ২৭ আগস্ট সন্তান প্রসবের পর আঁখি আক্তারের রক্তশূণ্যতা দেখা দেয়। ওইদিনই তাকে ভর্তি করা হয় ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ সময় দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও ক্রস ম্যাচিং করার সময় প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ মো. নুরুল আমীন পরীক্ষা করে জানান, আঁখির রক্তের গ্রুপ এ পজিটিভ।
আঁখি আক্তারের বাবা সামরান মিয়া (৪৭) বলেন, এর আগে একাধিকবার রক্ত পরীক্ষা করিয়েছি। সে অনুযায়ী তার রক্তের গ্রুপ বি পজিটিভ। রক্ত দেওয়ার আগে প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ নুরুল আমীনকে বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু তিনি অনড় হয়ে জানান, আঁখি আক্তারের রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ।
বাধ্য হয়ে আমরা স্বজনদের মধ্যে থেকে এ পজেটিভ ডোনার নিয়ে আসি। তার কাছ থেকে এক ব্যাগ এবং সন্ধানী ব্লাড ব্যাংক থেকে আরো এক ব্যাগ রক্ত রোগীর শরীরে দেয়া হয়।
বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে ২৭ আগস্ট হাসপাতাল থেকে দেওয়া রক্তের চাহিদাপত্রে দেখা যায়, সেখানে আঁখির রক্তের গ্রুপ বি পজিটিভ লেখা। পরে সেটা কেটে লেখা হয় এ পজিটিভ। এরপর ৩০ আগস্ট দেওয়া রক্তের আরেকটি চাহিদাপত্রে বি পজিটিভ লেখা দেখা যায়। এছাড়া ১০ মার্চ আঁখি আক্তার বোয়ালমারী সূর্যের হাসি ক্লিনিকে রক্ত পরীক্ষা করান। সেখানেও তার রক্তের গ্রুপ বি পজিটিভ বলা হয়।
আঁখি আক্তারের স্বামী আল আমীন জানান, আমার স্ত্রীকে বি পজিটিভ রক্ত না দিয়ে এ পজিটিভ রক্ত দেওয়া হয়েছে। একে তো অপারেশনের রোগী আবার ভুল রক্ত শরীরে দেওয়ার ফলে অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণা হচ্ছে তার। আমরা রক্ত দেওয়ার আগে বারবার বলেছি তার রক্তের গ্রুপ বি পজিটিভ। কিন্তু নুরুল আমীন আমাদের কথা কর্ণপাত করেননি। আমি নুরুল আমীনের বিচার দাবি করছি।









