দেশে ২০০৬ সালে গ্রাম আদালত আইন পাস হয়। আইন অনুযায়ী, ছোটখাটো বিভিন্ন ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। যশোরে ৯৩টি গ্রাম আদালতে বিচারিক ব্যবস্থা গতিশীল করতে নেয়া হয়েছে একটি প্রকল্প। এটি চালুর পর পরই বিচারিক ব্যবস্থায় গতি ফিরেছে। তিন মাসে গ্রাম আদালতে ২০৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা ১৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭০ টাকা ক্ষতিপূরণও পেয়েছেন।
গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে গ্রাম আদালত আইন পাস হলেও স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত পুরনো একটি ব্যবস্থা। ১৯৭৬ সালে একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে গ্রাম আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন আদালতটির আর্থিক এখতিয়ার ছিল ৫ হাজার টাকা। ২০০৬ সালে অধ্যাদেশটি বাতিল করে গ্রাম আদালত আইন প্রণয়ন করা হয়। নতুন আইনে আদালতটির আর্থিক এখতিয়ার বাড়ানো হয়। সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা মূল্যমানের বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা দেয়া হয় তখন। এরপর ২০১৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা আর্থিক এখতিয়ার বাড়ানোর দাবি জানান। পরে সরকার আইনে সংশোধন এনে আর্থিক এখতিয়ার দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলায় ৭৫ হাজার টাকা ধার্য করে। ২০২৪ সালের ৭ মে আইনটি সংশোধন করে গ্রাম আদালতের আর্থিক এখতিয়ার ৩ লাখ টাকা করা হয়েছে।
গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়ে) প্রকল্পের যশোরের জেলার ব্যবস্থাপক অ্যাডভোকেট মহিতোষ কুমার রায় জানান, গ্রামীণ জনপদে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিশেষ করে নারী, সংখ্যালঘু ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ন্যায়বিচারের স্বার্থে গ্রাম আদালত সক্রিয় করতে এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। অর্থের কারণে যারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তাদের বিচার নিশ্চিত করা আইনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।










