দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি: প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ-২০২৫। আগামী ২৬ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সপ্তাহটি উদযাপিত হবে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

তিনি বলেন, জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে পদক প্রদান, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, র‍্যালি, আলোচনা সভা, সেমিনার, কর্মশালা ও প্রদর্শনীসহ নানামুখী কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। প্রাণিসম্পদ পদক নীতিমালা অনুযায়ী এ খাতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচ ক্যাটাগরিতে ১৫টি পদক দেয়া হবে। প্রতি ক্যাটাগরিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের যথাক্রমে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক দেয়া হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এ পদক প্রদান করবেন। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভিডিও বার্তায় সপ্তাহের শুভেচ্ছা জানাবেন।

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা আরো বলেন, দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে জিডিপিতে এ খাতের অবদান ১ দশমিক ৮১ শতাংশ, কৃষিজ জিডিপিতে ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং জিডিপিতে প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। অর্থমূল্যে প্রাণিসম্পদ জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৯১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা।

তিনি জানান, পোল্ট্রি শিল্প এখন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থানের খাত। প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি বেসরকারি বিনিয়োগ রয়েছে এখানে। দেশে নিবন্ধিত রয়েছে ৮৫ হাজার ২২৭টি বাণিজ্যিক এবং প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার প্রান্তিক পোল্ট্রি খামার। প্রতিদিন গড়ে ৬ কোটি ৬৮ লাখ ডিম উৎপাদিত হচ্ছে—যা নিঃসন্দেহে একটি বড় সাফল্য।

রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) প্রতিরোধে ১৭ লাখ ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। ক্ষুরা রোগ (এফএমডি) নির্মূলে নির্দিষ্ট অঞ্চলে জোনিং কার্যক্রম চালু রয়েছে। ছাগলের পিপিআর রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৬ কোটি ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।