ইলিশ ধরার আশায় দাদন ও বিভিন্ন এনজিও থেকে মোটা অংকের ঋণ নিয়ে নৌকা ও জাল কিনে বিপাকে পড়েছেন মিরসরাই উপজেলার সাহেরখালী ঘাটের শতাধিক জেলে। সাগরে ইলিশ মাছ ধরা না পড়ায় দাদন ও ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না তারা। এছাড়া প্রতি বছরের ন্যায় এবার আশ্বিনের অমাবস্যা ও পূর্ণিমা মাঝে রেখে ৪-২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সাগরে ইলিশ মাছ আহরণ বন্ধ ঘোষণা করায় হতাশ জেলেরা।

জানা গেছে, সাহেরখালী স্লুইস গেট এলাকায় প্রতি বছর ইলিশের মৌসুম এলে উৎসবের আমেজ থাকে। সাহেরখালী, মায়ানী ও মঘাদিয়া ইউনিয়নের জেলেরা ইলিশ মৌসুমের আগে দাদন ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নতুন নৌকা তৈরি ও জাল কিনে প্রস্তুতি নেন ইলিশ মাছ ধরার জন্য। পরে ইলিশ বিক্রি করে সে ঋণের টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু চলতি বছর আশানুরূপ ইলিশ ধরা না পারায় দাদন ও এনজিওর ঋণের টাকা পরিশোধে বিপাকে পড়েছেন এখানকার শতাধিক জেলে।

সাহেরখালী ঘাটের জেলে বলরাম জলদাশ, হরিপদ জলদাশ জানান, প্রত্যেক বছর ইলিশ মৌসুম এলে জেলেরা দাদন ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নতুন নৌকা ও জাল কেনেন। পরে ইলিশ মাছ বিক্রি করে ঋণ করা টাকা পরিশোধ করতে পারেন। কিন্তু চলতি বছর সাগরে ইলিশ মাছ কম ধরা পড়ায় ঋণ পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। এছাড়া ৪-২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সাগরে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেদের হতাশা বেড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাহেরখালী স্লুইস গেট এলাকা থেকে প্রতিদিন শতাধিক নৌকা সাগরে মাছ ধরতে যায়। প্রতিটি নৌকায় তিন-পাঁচজন জেলে থাকেন। সাগরে মাছ ধরতে নামলে নৌকাপ্রতি খরচ হয় ২-৪ হাজার টাকা। কিন্তু জেলেদের জালে ইলিশ মাছ ধরা না পড়ায় জেলেরা খরচের টাকাও তুলতে পারছেন না।

ধনরঞ্জ জলদাশ নামে এক জেলে জানান, জেলেরা দাদন ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৩-৫ লাখ টাকা খরচ করে নৌকা ও জাল কেনেন। মাছ ধরার পর ওই মাছ দাদনের কাছে বিক্রি করতে হয়। দাদনের কাছে মাছ বিক্রি না করলে দাদন কেজিপ্রতি ২০ টাকা কেটে রেখে দেন।

সাহেরখালী স্লুইস গেট এলাকার ইলিশ মাছ বেপারি নুরুল আবছার বাবুল জানান, সাহেরখালী এলাকায় প্রতি বছর ইলিশ মৌসুমে দৈনিক ৮-১০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হতো। কিন্তু চলতি বছর ইলিশ মাছ কম ধরা পড়ায় সে লেনদেন নেমেছে ৩-৪ লাখ টাকায়।