সিলেটে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। টানা এ বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার নদ-নদীতে বেড়েছে পানি। প্লাবিত হচ্ছে সিলেটে-সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল। নদী উপচে হাওরেও ঢুকছে পানি। নগরের বিভিন্ন এলাকা হয়ে পড়েছে জলমগ্ন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। 

এ অবস্থায়ও সিলেটে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পূর্বাভাসে বলা হয়, সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টিসহ অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সুরমা নদীর সিলেট পয়েন্টে রোববার সন্ধ্যায় ৯ দশমিক ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। সোমবার তা বেড়ে সিলেট পয়েন্টে ১০ দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গতকাল তা আরো বেড়েছে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। 

সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার বেলা ৩টায় ওই পয়েন্টে ১৩ দশমিক ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আগের দিন একই সময় ১২ দশমিক ৬৭ সেন্টিমিটার উচ্চতা দিয়ে প্রবাহিত হয়। কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫। কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার। সোমবার সকাল ৯টায় নদীর ওই পয়েন্টে পানি ১১ দশমিক ৬৮ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৯ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার। সেখানে সোমবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ৮ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার। রোববার ওই পয়েন্টে ৮ দশমিক ২৩ সেন্টিমিটার দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

সারি নদের সারিঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার, সেখানে রোববার সন্ধ্যা ৬টায় পানি ১১ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সোমবার সকাল ৯টায় সেটি ছিল ১১ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। লুভা নদীর লুভাছড়া পয়েন্টে রোববার ১৩ দশমিক ৩২ সেন্টিমিটার উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। সোমবার সকাল ৯টায় সেখানে পানি কিছুটা কমে ১৩ দশমিক ৯ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা যায়।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে। এতে সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, ভোগাই-কংস, সোমেশ্বরী ও যাদুকাটা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে।