আগামী দিনগুলোয় রফতানিতে অবস্থান ধরে রাখতে চাইলে সার্কুলার অর্থনীতি সম্প্রসারণ করতে হবে। রফতানি বাণিজ্যে অবস্থান ধরে রাখতে চাইলে সার্কুলার অর্থনীতি বা রিসাইক্লিং যাই বলি না কেন, আমাদেরকে লাইনার ইকোনমির পাশাপাশি সার্কুলার ইকোনমিতে পরিবর্তিত করতে হবে। তা না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতা ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘প্লাস্টিক পণ্যের রফতানির সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে চক্রাকার অর্থনীতি’ শীর্ষক যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে বিপিজিএমইএ ও ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড ইনস্টিটিউশন (বিএসআই)।

সেমিনারে বিপিজিএমইএর সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, প্লাস্টিক উৎপাদনে পুনর্ব্যবহারকৃত প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার করলে খরচ কমে আসে। এটা আমাদের জন্য একটি সুযোগ। একই সঙ্গে নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বৈশ্বিকভাবে নতুন ধারণা নিয়ে ব্যবহৃত প্লাস্টিক দিয়ে পণ্য উৎপাদন করলে এটি আকর্ষণ তৈরি করে। সমাজও এটাকে গ্রহণ করে থাকে।

তিনি বলেন, সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সার্কুলার অর্থনীতি অগ্রগামী ভূমিকা রাখে। আমরা যত বেশি সম্পদ ব্যবহার করতে থাকব, তত বেশি আমরা ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাব। আমাদের বর্তমানে যে রিসোর্স আছে, সেগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারলে, সেটি আমাদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিপিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে অর্ধেক বর্জ্য পণ্য পুনর্ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে চায়। চামড়া রফতানির ক্ষেত্রে সেন্ট্রাল ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ভালোভাবে কাজ না করায় আমাদের চামড়া রফতানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। সার্কুলার অর্থনীতি আমরা যথাযথভাবে ব্যবহার না করলে আমাদের প্লাস্টিক রফতানিও ভবিষ্যতে কমে আসবে। 

প্লাস্টিক এবং সার্কুলার অর্থনীতি শীর্ষক প্রেজেন্টেশনে ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড ইনস্টিটিউশনের সার্কুলার অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ড. জেন গিলবার্ট বলেন, বর্তমানে মিউনিসিপ্যালিটিগুলো ২১০ কোটি টন বর্জ্য উৎপাদন করে। এর মধ্যে ৩৮ শতাংশ বর্জ্যই সংগ্রহ করা হয় না। ২০৫০ সালের মধ্যে এটি ৪০০ কোটি টনে গিয়ে দাঁড়াবে। আমরা লাইনার ইকোনমি থেকে সার্কুলার ইকোনমিতে যাচ্ছি বলে মনে করছি, কিন্তু আমরা আসলে যাইনি। আমাদের ভোগ অনেক বেড়েছে, কিন্তু সেগুলো পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে সঠিক ব্যবহার করছি না। এটি আমাদের অপচয়। এ অপচয় প্রতিরোধ করতে না পারলে সম্পদ নষ্ট হবে এবং আমাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির মাত্র ৭ দশমিক ২ শতাংশ সার্কুলার। প্রতি বছরই এটি উদ্বেগের সঙ্গে বাড়ছে। এর জন্য দূষণ প্রতিরোধ, পুনঃউৎপাদনের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য কম ব্যবহার, ব্যবহৃত পণ্য দীর্ঘস্থায়ী এবং পুনর্ব্যবহারে মনোযোগ দিতে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সলিম উল্লাহ বলেন, সারা বিশ্বের প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিতে আমরা ১ শতাংশ অবদান রাখতে পারিনি। আমাদের অবস্থান এখন দশমিক ১৫ এ। অষ্টম বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ হয়েও প্লাস্টিকে অবদান রাখতে পারি না আমরা? এজন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন বিপিজিএমইএর ভাইস-প্রেসিডেন্ট কাজী আনওয়ারুল হক, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কে এম ইকবাল হোসেন প্রমুখ।