ভোলায় আরো নয়টি কূপ খনন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘ভোলার নদী এলাকায় দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ করা হবে। বর্তমানে ভোলা থেকে সিএনজি করে দৈনিক পাঁচ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেশের মূল ভূখণ্ডের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য নেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে তা ২৫ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা হবে।’
গতকাল ভোলার বোরহানউদ্দিনে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল ও জ্বালানি সচিব মো. নুরুল আলম, বাপেক্সের ব্যবস্থাপকসহ (ভূতাত্ত্বিক বিভাগ) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত।
খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভোলার গ্যাসকে সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একই সঙ্গে দেশের বিদ্যুৎ ও ইন্ডাস্ট্রি খাতে যেখানে সংকট রয়েছে সেখানে গ্যাসের ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এজন্য ভোলায় আরো গ্যাসের অনুসন্ধান চালানো হবে এবং ভবিষ্যতে আরো নয়টি কূপসহ মোট ১৮টি কূপ খননের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভোলায় সার কারখানা করার জন্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলছে।’ এখানে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস পাইপলাইন করে বরিশাল ও পটুয়াখালীতে নেয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে তার আগে এ জেলায় শিল্প খাতে গ্যাস সংযোগ দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া ভোলার পৌর এলাকায় আবাসিক ও গৃহস্থালি কাজেও মিটারের মাধ্যমে সংযোগ দেয়ার কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিন তিনি বোরহানউদ্দিনে ২২০ ও ২২৫ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরে ভোলা সদরের সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লি. ডিআরএস পরিদর্শন ও সিএনজি পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে ভোলা নর্থ-১, ইলিশা-১ কূপ এবং প্রস্তাবিত ভোলা প্রসেস প্লান্ট এলাকা পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তার।
নসরুল হামিদ বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ সব উৎস হতে দেশীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে। এরই মধ্যে পেট্রোবাংলা ৪৬টি কূপ খনন ও পুনঃখননের কার্যক্রম শুরু করেছে, যা থেকে ৬১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে। ২০২৩ সালে এ কার্যক্রমের আওতায় এরই মধ্যে ১১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’ তিনি জানান, পাইপলাইন দিয়ে তিন বছরের মধ্যে ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে নেয়া হবে। এ সময় তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোলায় শিল্প গ্যাস সংযোগ দিয়ে ভোলায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির গুরুত্বারোপ করেন।










