‘ধন গোময়ের মতো। এক স্থানে অধিক জমা হইলে দুর্গন্ধ ও অনিষ্টকর হয়। মাঠময় ছড়াইলে উর্বরতাজনক, সুতরাং মঙ্গলজনক হয়’—বঙ্কিমের এ কথা খুব বেশি প্রাসঙ্গিক এ সময়ে। ধন মাঠময় ছড়ায়নি বলেই পচনের লক্ষণ স্পষ্ট। দেশে সম্পদ এখন অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত। বৈধ-অবৈধ সব সম্পদই জমা হচ্ছে উপরের দিকে, নিচের দিকে তা চুইয়ে পড়ছে না। সম্পদের অসম বণ্টনের বিরুদ্ধে কথা বলতে হচ্ছে নীতিনির্ধারকদেরও। শুদ্ধি অভিযানের কথাও বলছেন তারা।

উন্নয়নের ‘ট্রিকল ডাউন’ বা চুইয়ে পড়া তত্ত্ব কাজে আসেনি বলেই এ অবস্থা। এ তত্ত্ব মতে, অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে পারলেই উৎপাদন বাড়বে। আর উৎপাদন বাড়লেই এর সুবিধাগুলো দরিদ্র শ্রেণীর অনুকূলে প্রবাহিত হবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে লক্ষণীয়। তবে এ উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ভঙ্গুর (দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে থাকা) মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের অর্ধেক মানুষ।

বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড অনুযায়ী, একজন মানুষের দৈনিক আয় ১ দশমিক ৯ ডলার হলেই তাকে দারিদ্র্যমুক্ত ধরা হয়। দারিদ্র্যমুক্তির পরও যাদের আয় ৩ দশমিক ৮ ডলার পর্যন্ত থাকে, তাদের রাখা হয় দারিদ্র্যঝুঁকির শ্রেণীতে। অসুস্থতা, আকস্মিক দুর্ঘটনা, সামাজিক ব্যয় বৃদ্ধি বা অপ্রত্যাশিত কোনো খরচের চাপ সামাল দেয়ার সামর্থ্য তাদের থাকে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আবারো দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে তারা। তাই এ আয় শ্রেণীর মানুষকে দারিদ্র্যঝুঁকিতে রাখা হয়।

এ শ্রেণীর মানুষের সংখ্যা বাড়ছে দেশে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা আয়-ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, ২০০০ সালেও দেশে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে থাকা মানুষ ছিল ৩৫ শতাংশের কাছাকাছি। পরের পাঁচ বছর তা বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়ায়। দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের হার বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে পরের ছয় বছরও। ২০১৬ সালে এ হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। যদিও দেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। দারিদ্র্যের হারও কমেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক যে আয় বৃদ্ধি তা লক্ষণীয়। আয় বিবেচনায় উপরের দিকের মানুষের জীবনমানের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। তবে নিচের দিকে অবস্থানকারী ৪০ শতাংশের ক্ষেত্রে আয় বৃদ্ধির ফল অতটা উচ্ছ্বসিত হওয়ার মতো নয়। তাদের দুর্দশা তেমন পাল্টায়নি। বরং দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে থাকা মানুষ আরো বেড়েছে।

দারিদ্র্য হ্রাসে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকলেও ঝুঁকিতে (দারিদ্র্য) থাকা মানুষকে বের করে আনার ক্ষেত্রে কার্যক্রমের অভ??