চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) গহীন পাহাড়ি জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ নাজিমের দুটি আখড়ার সন্ধান পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকে ৪৪ পিস ইয়াবা, তিনটি রামদা, নতুন এক ধরনের ট্যাবলেটসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। 

আজ সোমবার দুপুর সোয়া ১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের পেছনের পাহাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির নেতৃত্বে অভিযানে পুলিশ ও নিরাপত্তা দফতরের কর্মীরা ছিলেন।  

আটককৃতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের চেইনম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাজিমের ভাই মো. মহিউদ্দিন (২৬), শারীরিক শিক্ষা বিভাগের অফিস সহকারী মঈনুল হক হাসান (৪২) ও কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংলগ্ন দোকানি মো. নাছির (২৮)। আলামতসহ তাদের হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তা দফতরের এক বৃদ্ধ কর্মচারীকে মারধরের ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ নাজিম বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাকে ধরতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের পেছনে টেলিটক পাহাড়ের গহীনে অভিযান চালিয়ে দুটি আখড়ার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে নাজিমকে না পেলেও তার ছোট ভাইসহ তিনজনকে আটক করা হয়। এসময় ৪৪ পিস ইয়াবা, তিনটি রামদা, একটি বল্লম উদ্ধার করা হয়।

ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা ছিনতাইয়ের শিকার হতো। ছিনতাইকারী এসব বাহিনীর নিয়ন্ত্রক নাজিম, এমন অভিযাগ দীর্ঘদিনের। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজী, মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, কর্মচারীকে মারধরের ঘটনায় নাজিমের বিরুদ্ধে থানায় মামলা আছে। এছাড়া এসব স্থানে ছিনতাইকারীরা অবস্থান করে বলে আমাদের কাছে খবর ছিল। আজ অভিযান চালিয়ে দুটি আখড়া পাওয়া যায়। সেখান থেকে মাদক ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আমরা সেখানে নতুন এক ধরনের ট্যাবলেট পেয়েছি। ধারণা করা হচ্ছে, মাদকের জন্য এসবও ব্যবহার করা হয়। আলামতসহ আটককৃতদের থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। দুজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক আবদুর রহিম বণিক বার্তাকে বলেন, আখড়া দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা ভেঙে দিয়েছেন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। কয়েকজন সহকারী প্রক্টর সাক্ষীও দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দফতরের সুপারভাইজার মো. বেলায়েত হোসেনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. নাজিমের বিরুদ্ধে। ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠসহ নাজিমের কয়েকটি আখড়ায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে নিরাপত্তা দফতরের কর্মকর্তা মো. বজল হক বাদী হয়ে হাটহাজারী মডেল থানায় মামলা করেন।

রাজনীতিতে নাজিম শাখা ছাত্রলীগের বগি ভিত্তিক উপগ্রুপ বাংলার মুখের নেতা এবং সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী বলে পরিচিত।