সংস্থাটি বলছে, মোট ব্যয়ের প্রায় ৭১ শতাংশ খরচ হবে দেশের শীর্ষ ২৫ শতাংশ বড় কারখানাগুলোয়। সঠিক মডেল অনুযায়ী যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হলে বছরে প্রায় ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৪৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত শক্তি সাশ্রয় করা সম্ভব বলেও জানিয়েছে সিপিডি। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘ন্যাশনাল ডায়ালগ অন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিকার্বনাইজেশন’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে উপস্থাপিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে। অনুষ্ঠানে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট সামি মোহাম্মদ। সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এ সময় বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সহসভাপতি ব্যারিস্টার বিদ্যা অমৃত খান ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফ শাহরিয়ার উপস্থিত ছিলেন।

সূচনা বক্তব্যে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘সময় এসেছে বিকল্প জ্বালানির ওপর ভিত্তি করে দেশের শিল্প-কারখানা বা অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তোলার। যেমন শিল্প-কারখানায় বিদ্যুতের যে চাহিদা রয়েছে, তার একটি অংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা। এছাড়া গাড়িতে ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে ইলেকট্রিক ভেহিকলে এবং শিল্প ও কৃষি উৎপাদনে ডিজেলের বিকল্প হিসেবে আরো বেশি সৌরভিত্তিক সেচ ব্যবস্থা বা বৈদ্যুতিক সেচ ব্যবস্থার দিকে যাওয়া প্রয়োজন।’ দীর্ঘদিন ধরে এসব সমাধানের কথা বলা হলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক।

তিনি আরো বলেন, ‘এ মুহূর্তে সরকারের জ্বালানি খাতের জন্য একটি জরুরি প্রতিক্রিয়া দল গঠন করা দরকার, যারা জরুরি ভিত্তিতে সমাধানগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যাবে। সরকার সবকিছু প্রকিউরমেন্টে করুক, কিন্তু বিষয়টি দ্রুত করা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি।’ সবকিছু মিলিয়ে দেশের শিল্প খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে হলে মূল কাজটি তৈরি পোশাক খাতকে দিয়ে শুরু করতে হবে বলে মনে করেন এ গবেষক।

দেশের ৩৫০টি পোশাক কারখানার ওপর পরিচালিত সিপিডির গবেষণায় বলা হয়েছে, পোশাক খাতে জ্বালানি ব্যয় কমাতে কারখানায় টেকসই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। এটি নিশ্চিত করতে গার্মেন্টস খাতের ১৫ হাজার ২টি যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন করা জরুরি, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। আর ৫০ শতাংশ আধুনিকায়নে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা।

গবেষণায় দেখা গেছে, বড় কারখানার মধ্যে যাদের গড়ে ২ হাজার ১০৫ জনের বেশি কর্মী রয়েছে, মোট ব্যয়ের ৭০ দশমিক ৯ শতাংশই তাদের জন্য প্রযোজ্য। প্রতি কারখানায় গড়ে ৫০ শতাংশ বাস্তবায়নে খরচ হবে ৭৩ দশমিক ১ কোটি টাকা। অন্যদিকে সবচেয়ে ছোট কারখানায়, যেখানে গড়ে ১১১ জন শ্রমিক রয়েছেন, মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ খরচের মাধ্যমে শক্তি সাশ্রয় করা সম্ভব।

অন্যদিকে কাটিং বিভাগে মাত্র ৫ দশমিক ৫ শতাংশ মেশিন থাকলেও প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ সাশ্রয় সম্ভব। সেলাই বিভাগে ৮৫ শতাংশ মেশিন থাকলেও এগুলো প্রযুক্তিগতভাবে অপরিহার্য হওয়ায় সাশ্রয়ের হার ২ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে ডায়িং ও ওয়াশিং বিভাগে গ্যাসের ব্যবহার বেশি হওয়ায় সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে শতভাগ কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব নয়। আর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে কারখানার বিদ্যুৎ খরচ ৪ দশমিক ৪ থেকে ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

গবেষণায় আরো বলা হয়, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দেশের মোট গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের ১৫ দশমিক ৪ শতাংশের জন্য দায়ী। এ খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর খরচ মেটাতে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে সিপিডি।