চট্টগ্রামে
ইসলামী ব্যাংকের চকবাজার শাখার লকার থেকে এক গ্রাহকের ১৪৯ ভরি স্বর্ণ চুরির অভিযোগ
উঠেছে। অভিযোগকারী ওই শাখার গ্রাহক রোকেয়া আক্তার বারী। স্বর্ণ চুরির ঘটনায় ইসলামী
ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী গ্রাহকের।
রোকেয়া আক্তার বারী বণিক বার্তাকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইসলামী ব্যাংকের চকবাজার শাখার গ্রাহক। লেনদেনের পাশাপাশি তিনি ব্যাংকের লকার ব্যবহার করেন।
তিনি বলেন, গত ২৯ মে দুপুর দেড়টার দিকে ইসলামী
ব্যাংকের চকবাজার শাখায় কিছু স্বর্ণালঙ্কার আনার জন্য গেলে দায়িত্বে থাকা অফিসারকে আমার
লকার খুলে দেয়ার জন্য অনুরোধ করি। চাবি
দিয়ে লকার খোলার সঙ্গে সঙ্গে ওই অফিসার আমার বরাদ্দকৃত লকারটি খোলা দেখতে
পান।
ভুক্তভোগী ওই
নারী জানান, লকারে হাতের চুড়ি, জড়োয়া সেট, গলার সেট, গলার চেইন, আংটি, কানের দুলসহ
১৪৯ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিল। লকার খোলার পর দেখা যায়, সেখানে আনুমানিক ১০ থেকে ১১ ভরি
স্বর্ণ অবশিষ্ট ছিল। খোয়া যাওয়া স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে দাবি
করেন তিনি।
যদিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, গ্রাহকের লকার থেকে কোনো সঞ্চিত কোন জিনিস ব্যাংকের দায়িত্বরতদের মাধ্যমে চুরি যাওয়ার সুযোগ নেই। গ্রাহকের কাছে থাকা চাবি ছাড়া লকার খোলা যাবে না। তবে গ্রাহকের সঙ্গে ২৯ মে লকার কক্ষে প্রবেশের পর মাস্টার কী প্রবেশ করানোর সময় দায়িত্বরত অফিসার অভিযোগকারী গ্রাহকের ওই লকারটি আংশিক খোলা রয়েছে বলে দেখতে পান বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে চকবাজার
শাখার ম্যানেজার ও ইসলামী ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম শফিকুল মাওলা চৌধুরী বণিক
বার্তাকে বলেন, ব্যাংকের দায়িত্বশীল কারো মাধ্যমে গ্রাহকের লকার থেকে চুরি হওয়ার সম্ভাবনা
নেই। গ্রাহক সর্বশেষ লকার রুম চেকআউটের সময় ভুল কিংবা অসাবধানতাবশত লকার আংশিক খোলা
অবস্থায় চাবি বের করে আনতে পারেন। তবে সবকিছু নির্ভর করছে তদন্তকারী দলের প্রতিবেদনের
ওপর। ইসলামী ব্যাংকের তিন সদস্যের কমিটি বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সারা দিন চকবাজার শাখায়
এসে প্রয়োজনীয় তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেছেন। তদন্ত চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে
কোনো অভিযোগ নেয়নি চকবাজার থানা পুলিশ। থানা কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের সঙ্গে বিষয়টি সমাধান
কিংবা মামলা করার অনুরোধ জানায়। তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে চকবাজার থানার ফোর্স ওই
দিন ব্যাংকে গিয়ে ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন।
এ বিষয়ে জানতে
চাইলে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়ালী উদ্দিন আকবর বণিক বার্তাকে
বলেন, ইসলামী ব্যাংকের চকবাজার শাখার লকার থেকে স্বর্ণ চুরির বিষয়ে অভিযোগ জানাতে একজন
গ্রাহক আমাদের থানায় এসেছিলেন। গত ২৯ মে তারিখ থানা থেকে পুলিশের ফোর্স পাঠানো হয়েছে
ওই ব্যাংকের শাখায়। তবে মৌখিকভাবে জানালেও গ্রাহক এখনো মামলা করেননি। বিষয়টি সুরাহা
করতে ব্যাংক গ্রাহকের কাছ থেকে সময় নিয়েছেন। তবে গ্রাহক মামলা করলে আমরা সেটি গ্রহণ
করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রস্তুত।










