লাল-সবুজের পতাকা হাতে স্কাইডাইভিংয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন ব্যাংকার আশিক চৌধুরী। বাংলাদেশী এ তরুণের দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা সফল করতে স্পন্সর হিসেবে পাশে ছিল ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক। গতকাল রাজধানীর গুলশানে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ার গৌরব উদযাপনে এক প্রেস মিট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রেস মিটে ব্যাংকটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর আরিফ কাদরীসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা এ বিরল সম্মান অর্জনের পেছনে তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর নির্ভীক প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান।

আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য আশিকের ডাইভ সংক্রান্ত সব তথ্য এরই মধ্যে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওয়ার্ল্ড এয়ার স্পোর্টস ফেডারেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আশিক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের দুটি শাখায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করেন। শাখা দুটি হলো ‘‌লংগেস্ট আউটডোর ফ্ল্যাট ফ্রিফল’ ও ‘‌গ্রেটেস্ট ডিসটেন্স ফ্রিফল উইথ আ ব্যানার/ফ্ল্যাগ’।

গত ২৫ মে ৪১ হাজার ৭৯৫ ফুট উচ্চতা থেকে ‘‌হাই অল্টিচ্যুড লো ওপেনিং’ স্কাইডাইভ করেন আশিক। বিশ্বে অ্যারোনটিক্যাল রেকর্ডের স্বীকৃতিদানকারী প্রধান সংস্থা এফএআই ওয়ার্ল্ড এয়ার স্পোর্টস ফেডারেশনের একজন বিচারক আশিকের স্কাইডাইভটি পর্যবেক্ষণ করেন। স্কাইডাইভিংয়ের সময় আশিকের হাতে থাকা বাংলাদেশের পতাকাটির মাপ ছিল প্রায় সাত বর্গফুট, যা স্ট্যাটোস্ফিয়ারে এ পর্যন্ত ওড়ানো সবচেয়ে বড় পতাকা।

রেকর্ড গড়ার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে পাইপার পিএ-ফরটি টু মডেলের একটি উড়োজাহাজ থেকে ঝাঁপ দেন আশিক। দেশের পতাকা হাতে প্রায় ৩ মিনিট পর্যন্ত তিনি কোনো সহযোগিতা ছাড়াই নেমে আসেন। ঝাঁপ দেয়ার ২০ সেকেন্ডের মধ্যে তিনি ঘণ্টায় ৩১৪ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতি (ভার্টিক্যাল স্পিড) লাভ করেন। মোট ৩৭ হাজার ২৯০ ফুট উচ্চতা অতিক্রমের পর অবশেষে ৪ হাজার ৪৯৮ ফুট উচ্চতা থেকে তিনি প্যারাসুট ব্যবহার করে নিরাপদে অবতরণ করেন। অনানুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত এটিই বিশ্বরেকর্ড।