দেশব্যাপী চলমান পরিস্থিতিতে শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাত ১২টার পর থেকে মোতায়েন করা হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে গতকাল রোববার (২২ জুলাই) রাজধানীর শেখ রাসেল স্কেটিং স্টেডিয়ামের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সেনাপ্রধান এ আশ্বাস দেন।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘সেনাবাহিনী মোতায়েন হওয়ার পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। জনগণের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগনের পাশে আছে এবং থাকবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী কাজ করে যাচ্ছেন।’

সেনাপ্রধান বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের মানসিকতাকে কী বলব? এটা তো নিজের সম্পদ নিজে ধ্বংস করছে। তাদের গুভবুদ্ধি উদয় হোক। আমরা মাত্র ৪৮ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেছি। এরই মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটা ভালো হয়েছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরো কিছু সময় লাগবে। সারা দেশে সাপ্লাইচেইনগুলো চালু করা হয়েছে, যাতে দ্রব্যমূল্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ঠিক থাকে।’

এক প্রশ্নের জবাবে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘ক্ষোভ থাকতে পারে, কিন্তু এটা তো জনগণের সম্পদ। এ সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি করে আসলে কী লাভ? আমার কাছে দুর্ববোধ্য। ইন্টারনেট ঠিকভাবে আসতে এবং বিদ্যুৎ ও সুয়ারেজ সবকিছু ঠিক হতে সময় লাগবে। জনগণের দুর্ভোগ হচ্ছে। সবকিছু বির্পযস্ত। আপনারা দেখেছেন অনেক ধবংশযজ্ঞ হয়েছে। সড়কে এখনো অনেক পোড়া গাড়ি পড়ে রয়েছে, এগুলো সরাতে হবে। চালকদের মধ্যে সস্তি ফেরাতে হবে। খুব শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। সবাই যদি একসঙ্গে কাজ করি আমি নিশ্চিত আমরা আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারব তথা স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে পারব।’

সংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রকৃত চিত্র তুলে ধরছেন। আপনারা আমাদের প্রেরণা জুগিয়েছেন। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরাও কাজ করছে বলে জানান সেনাবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর স্বাভাবিক পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমি মনে করি পরিস্থিতির আরো উন্নতি করতে পারব।’

এর আগে সেনাবাহিনী প্রধান রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন করা সেনা পোস্টগুলো পরিদর্শন করেন। পরে তিনি পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় দায়িত্বরত সেনা সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। দায়িত্বরত সেনাকর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন খবরাখবর নেন।