সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মডেল মসজিদ নির্মাণে ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। দুই বছরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও পার হয়ে গেছে চার বছর। এ সময়ের মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে শুধু পিলার। তাতেও রয়েছে ত্রুটি। এ অবস্থায় আর্থিক ক্ষতির কারণ দেখিয়ে কাজ বন্ধ রেখে চলে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত অফিস সূত্রে জানা গেছে, মসজিদ নির্মাণের কাজটি পায় ঢাকার মোহাম্মদপুরের ফার্স্ট এসএস কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জমিসংক্রান্ত কিছু জটিলতা কাটিয়ে জায়গা নির্ধারিত হয় পৌরসভার বাস টার্মিনালে। এসব করতেই কাজের মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে যায়। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মসজিদ ভবনের মূল কলাম ঢালাইয়ের কাজ করে। চলতি বছরের ৩ এপ্রিল ধরা পড়ে পিলার নির্মাণ করা হয়েছে আঁকাবাঁকা। জেলা প্রশাসক মসজিদ ভবনটি পরিদর্শনে এলে কলাম তৈরির ত্রুটিও ধরা পড়ে। পরে তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি পিলারগুলো ভেঙে নতুন করে নির্মাণের সুপারিশ করে।
এ প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট এসএস কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবু সাদেক বলেন, ‘জমি নির্ধারণসহ বিভিন্ন কারণে অনেক সময় ব্যয় হয়েছে। এছাড়া কাজের শুরুতেই কিছু ভুলের কারণে বেজ ঢালাই ও ২৫টি পিলার ভেঙে ফেলে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছিল। এ কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পায়। লোকসানও গুনতে হয়েছে। কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করে সব পণ্য সরিয়ে নেয়া হয়েছে।’
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমাদের চোখে নির্মাণ ত্রুটির বিষয়টি ধরা পড়ায় মসজিদটি নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত বিভাগ, তারাই এর ভালো মন্দ বুঝে নেবে।’
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমাদুল হাসান বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর্থিক ক্ষতি দেখিয়ে আবেদন করেছিল। পরে সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে তা মঞ্জুর করা হয়। বাকি কাজের জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বানের নির্দেশও দেয়া হয়েছে। ত্রুটি নিয়ে মসজিদ করা হবে না।’










