আমরা জাতির কাছে যে ওয়াদা করেছিলাম, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সে ওয়াদা পূরণ করতে পেরেছি। আমি এখনো এমন একজন ব্যক্তিকেও পাইনি, যিনি বলেছেন যে তিনি নির্বাচনের দিন ভোট দিতে পারেননি।’
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, ‘আমি যখন ভোট কেন্দ্র ভিজিট করেছি, তখন ভোটারদের জিজ্ঞাসা করেছি, ভোট দিতে এসে তারা কোনো প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন কিনা। জবাবে একজনও আমাকে বলেননি যে তিনি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। এমনকি বয়স্ক মহিলারাও ভোট দিতে এসে কোনো বাধাবিপত্তি ফেস করেননি বলে জানিয়েছেন। সবাই বলেছেন তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন।’
দেশের অর্থনীতি ও জিডিপিতে নারীদের গৃহস্থালি কাজের মূল্যায়ন করা হয় না উল্লেখ করে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘নারীদের ঘরের কাজের অবদান যদি আর্থিক মূল্যে (মনিটাইজ) হিসাব করা হতো, তবে বাংলাদেশের জিডিপি বর্তমানের তুলনায় তিন গুণ বেশি হয়ে যেত।’
সিইসি বলেন, ‘সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নারী কর্মকর্তাদের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। ভোটের পর অনেক অনিয়মের অভিযোগ আমার কাছে এসেছে, কিন্তু মজার ব্যাপার কোনো নারী প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’
সিইসি জানান, আগে নারী ও পুরুষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখের ব্যবধান ছিল। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের ফলে সেই গ্যাপ এখন ১০ লাখে নেমে এসেছে।
ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। ‘সমতা নিশ্চিত করি নারী পুরুষ মিলে ভবিষ্যৎ গড়ি’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
এছাড়া ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, ইউএন উইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং, ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।










