তারা বলেছেন, দেশের ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ গ্রামে বাস করে। তাই এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। গ্রামীণ খাতের সমস্যা সমাধানে টেকসই নীতি প্রণয়ন প্রয়োজন।
গতকাল রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলে ইনস্টিটিউট ফর ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইএনএম) পরিচালিত তিন বছর মেয়াদি এক সমন্বিত গবেষণাপত্র উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে “অ্যাকসেস টু ফাইন্যান্স’’ বা অর্থায়ন পাওয়া এখনো বেশ জটিল। সরকার এ বাধা দূর করতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খাতের সুবিধার্থে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রান্তিক পরিবার ও বর্গাচাষীদের সুরক্ষায় “ফ্যামিলি কার্ড’’ ও ‘‘ফার্মার্স কার্ড’’ বিতরণ এবং জেলা পর্যায়ে ‘‘ক্রিয়েটিভ হাট’’ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। দেশের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গ্রামীণ অর্থনীতি আরো বড় ভূমিকা রাখবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের লক্ষ্য—গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়া। নিয়মিতভাবে গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর গবেষণা ও সমীক্ষা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নীতি গ্রহণ করা হলে গ্রামীণ অর্থনীতির প্রকৃত রূপান্তর ও সমৃদ্ধি সুনিশ্চিত হবে।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ হলে আমাদের আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটবে। কিন্তু দেশের মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশের বেশি এখনো গ্রামে বাস করে। এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। আর কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে গ্রামীণ অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে কাজে লাগাতে হবে।’
অনুষ্ঠানে গবেষণার মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরে আইএনএমের নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘আর্থিক পরিষেবা কেবল প্রদান করলেই হবে না, তা যেন দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হয়। তাইওয়ান, চীন, সাউথ কোরিয়া ও জাপানের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা দেখেছি, কেবল একক অর্থায়নে গ্রামীণ বা সিএমএসএমই (কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ) খাতের বিকাশ সম্ভব নয়। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক খাতের টেকসই উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।’










