ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দৈনিক গড়ে ৭৫ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে। ঈদে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরো কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে এবার মহাসড়কে কোনো সংস্কারকাজ চলমান না থাকায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হওয়ার কথা থাকলেও আটটি পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। ট্রাফিক বিভাগের তথ্যমতে, যত্রতত্র গাড়ি পার্ক ও রাস্তা বন্ধ রেখে যাত্রী ওঠানামা করায় এসব পয়েন্টে যানজট সৃষ্টি হতে পারে। সে সঙ্গে মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা থাকায় যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়।

গতকাল মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের কোথাও কোনো সংস্কারকাজ চলমান নেই। তবে নারায়ণগঞ্জ অংশের আটটি পয়েন্টে যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পয়েন্টগুলো হলো সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, মৌচাক স্ট্যান্ড, ১০ তলা ভবন, শিমরাইল মোড়, সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর, বন্দরের মদনপুর, সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া ও মেঘনাঘাট টোলপ্লাজা এলাকা। এর মধ্যে সাইনবোর্ড, ১০ তলা ভবন, শিমরাইল মোড় ও মোগরাপাড়ায় সবসময় যানবাহনের জটলা লেগেই থাকে। অন্যদিকে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে টোলপ্লাজার যানজট মোগরাপাড়া ছাড়িয়ে যায়। এছাড়া মেঘনা ও গোমতী সেতুতে টোল আদায়ে বিলম্ব এবং মহাসড়কে যানবাহন বিকল কিংবা সড়ক দুর্ঘটনা যানজটের অন্যতম বড় কারণ হতে পারে।

তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল জানান, মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক জেলা পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের পেট্রল টিম নিয়োজিত থাকবে।

পরিবহন চালকদের দাবি, সাইনবোর্ড, ১০ তলা ভবন, শিমরাইল মোড়, মদনপুর চৌরাস্তা ও মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় লোকাল বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। এখানে যাত্রী ওঠানামা করার কারণে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। তবে কয়েকটি স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে যানজট থাকবে না। পাশাপাশি মহাসড়কটি ঘিরে শিমরাইল মোড় এবং মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় হকারদের কারণে যানবাহনগুলো চলাচল করতে বাধার মুখে পড়তে হয়। অন্যদিকে মেঘনা টোল প্লাজায় সব টোল বুথ চালু রাখতে পারলে যানজট থাকবে না বলে মনে করেন তারা। এছাড়া ছোট ছোট যানবাহন সিএনজি অটোরিকশা ও ভ্যান মহাসড়কে চলাচল করতে না দিলে যানজট নিরসন হতে পারে।

এ ব্যাপারে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার শিমরাইল ক্যাম্পের টিআই একেএম শরফুদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যাত্রীদের ঈদযাত্রা স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে অন্যবারের মতো এবারো আমরা মহাসড়কে নিয়োজিত থাকব। যেসব পয়েন্টে যানজটের শঙ্কা রয়েছে, ওইসব পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।’

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হক বলেন, ‘গতবারের চেয়ে এবার মহাসড়কে আরো বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি মোবাইল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স টিমও থাকবে। এছাড়া মহাসড়কে যানবাহন বিকল হলে কিংবা সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত সেসব যানবাহন সরানো হবে। এজন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড় এবং মদনপুর অংশে দুটি রেকার রাখা হবে।’

নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী শাহানা ফেরদৌস বলেন, ‘এবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কোনো সংস্কারকাজ চলমান না থাকায় যাত্রীরা সহজেই গন্তব্যস্থলে যেতে পারবেন। তবে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ স্থাপনা না থাকলে আর যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং না করলে যানজটের শঙ্কাই থাকবে না। মেঘনাঘাট টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে টোলপ্লাজার প্রত্যেকটি বুথ সবসময় যেন সচল থাকে সেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’