সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ ঘোষণার প্রেক্ষিতে প্রান্তিক নারী কৃষক ও জুমচাষে সম্পৃক্ত আদিবাসী নারীদের এ কর্মসূচির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ২৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
সোমবার (১৬ মার্চ) এক বিবৃতিতে তারা বলেন, সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে হতদরিদ্রদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যা প্রশংসনীয়।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার কৃষক কার্ডও আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে বিতরণ শুরু হবে বলে এরই মধ্যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে দেশের সাধারণ নাগরিকদের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি ও সুপারিশ উত্থাপন করছি।
১. পাইলট প্রকল্পের অধীনে হতদরিদ্র পরিবারের জন্য যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা শুরু হয়েছে, তার পরিধি চলতি বছরের মধ্যেই দ্রুত বিস্তৃত করা জরুরি।
২. আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে, তার আওতায় নারী কৃষকরাও যাতে যৌক্তিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হন তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিভিন্ন সরকারি জরিপসহ অনেক গবেষণা থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে যে, কৃষিতে এখন নারীদের মেধা, শ্রম ও সার্বিক অবদানই মুখ্য বিষয় (বিবিএসের তথ্যমতে দেশে নারী কৃষকের সংখ্যা শতকরা ৫৮ ভাগ)। সেহেতু জমির মালিকানাভিত্তিক কৃষক কার্ডের বদলে শ্রমের অবদানভিত্তিক কৃষক কার্ডকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এতে প্রান্তিক নারী কৃষক, বর্গাচাষী ও লিজের মাধ্যমে কৃষিচর্চায় নিয়োজিত নারীরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।
৩. এছাড়া পার্বত্য জেলাগুলোসহ সমতলের বিভিন্ন আদিবাসী এলাকায় যেসব নারীরা জুম চাষের মাধ্যমে কৃষি, সবজি ও বিভিন্ন অর্থকরী ফসল উৎপাদন করেন, তাদেরকেও কৃষক কার্ড দেয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই আমরা তাদের সবাইকে কৃষক কার্ড বিতরণের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
৪. মৎস্যচাষ ও প্রাণিসম্পদ—গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি পালনে নিয়োজিত নারীদের, বিশেষ করে হাওড় ও উপকূল অঞ্চলে, একই বিবেচনায় কৃষক কার্ড দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৫. গ্রামাঞ্চলে যে কৃষক-মজুররা ভূমিহীন হয়েও কৃষিতে নিয়মিত শ্রম দিয়ে কৃষিব্যবস্থার সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের সংখ্যা গ্রামীণ জনসংখ্যার ৫০-৫৬ শতাংশ। তাদেরকেও কৃষক কার্ড অথবা কৃষি মজুরের কার্ড দিয়ে প্রাপ্য সব সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি একই সঙ্গে বিবেচনায় আনার জন্য আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
৬. বিতরণ প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দলীয়করণসহ নানা ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ এবং সব পর্যায়ে এ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানাই।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামসহ মোট ২৮ জন।










