প্রাকৃতিক বন রক্ষার জন্য সামাজিক বনায়নের প্রকল্পে পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক বনে সামাজিক বনায়ন চালু করা যাবে না। এ ধরনের বনায়নে গাছ কেটে উপকারভোগীদের মাঝে অর্থ বিতরণ করা হয়, যা বনবিভাগের মূল দায়িত্ব নয়। তাদের প্রথম দায়িত্ব হলো প্রাকৃতিক বনকে সংরক্ষণ করা।

বুধবার (৬ নভেম্বর) টাঙ্গাইলে ‘সবুজ পৃথিবী’ আয়োজিত আন্তর্জাতিক পরিবেশ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় উপদেষ্টা আরো বলেন, বনায়নে ইউক্যালিপটাস ও একাশিয়া গাছের পরিবর্তে দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানো অত্যন্ত জরুরি। কৃষকের অধিকার বনবিভাগে সুরক্ষিত করতে এবং বন বিভাগ ও কৃষকের মধ্যে দ্বন্দ্ব দূর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বন, বনবাসী এবং বন্যপ্রাণীকে একসঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে রাখতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন থেকে কৃষি খাতকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। আমাদের ভোগবাদী অর্থনীতির মডেল নয়, পরিবেশবান্ধব জীবনধারায় অভ্যস্ত হতে হবে।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

এ সম্মেলনে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরো বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় জনগণের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ গুরুত্বপূর্ণ।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শহীদুল হক, আসপাডা পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক লায়ন এম এ রশীদ, রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন এবং সবুজ পৃথিবীর সাধারণ সম্পাদক শহীদ মাহমুদ। আর সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ব্যুরো বাংলাদেশের পরিচালক ফারমিনা হোসেন।