ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যাম্পাসে বিভিন্ন হলে মিছিল বের করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার রাত সাড়ে ১২টায় এ
প্রতিবেদন লেখার সময় বিভিন্ন হলে মিছিল চলছিল। শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়
হলের তালা ভেঙে বের হন। মিছিলে ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারি চাকরির কোটা
সংস্কার দাবিতে আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের অবমাননা করা হয়েছে।
রোকেয়া হলের এক
শিক্ষার্থী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা যখন বের হই, তখন হলের কোনো কর্মকর্তা ছিলেন
না। আমরা দারওয়ান চাচাকে গেট খুলে দিতে বললে তিনি অস্বীকৃতি জানান। পরে আমরাই তালা
ভেঙে বেরিয়ে পড়ি।’ বঙ্গমাতা শেখ
ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, কুয়েত মৈত্রী হল, শামসুন নাহার হল থেকেও নারীরা বেরিয়ে
এসেছেন বলে তিনি জানান।
একই অভিযোগে বিক্ষোভ
মিছিল হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী
বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও।
শিক্ষার্থী ও
চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে ১০ শতাংশ
নারী কোটা, ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও ১০ শতাংশ জেলা কোটা বাতিল করে পরিপত্র
জারি করা হয়। ওই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট করেন মুক্তিযোদ্ধার
সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন। গত ৫ জুন সেই আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি
কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ কোটা পদ্ধতি বাতিলের
সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের রায়ের পর নতুন করে আন্দোলনে নামেন
শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে তারা কোটা বাতিলসহ চার দফা দাবিতে
বিক্ষোভ করছিলেন। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) চার দফা থেকে দাবি এক দফায় নামিয়ে আনেন
আন্দোলনকারীরা। তাদের এক দফা হলো—সব গ্রেড থেকে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল এবং
অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে এনে সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে কোটা
পদ্ধতি সংশোধন করতে হবে।
এর মধ্যে সরকারি চাকরির
কোটা ব্যবস্থা নিয়ে বুধবার (১০ জুলাই) সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা
বজায় রাখার আদেশ দেন আপিল বিভাগ। ওই দিন স্থিতাবস্থার ব্যাখ্যায় অ্যাটর্নি জেনারেল
এএম আমিন উদ্দিন সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘আপিল বিভাগ সাবজেক্ট ম্যাটারে স্থিতাবস্থা
জারি করেছেন। হাইকোর্টের রায়ের আগে যেমন ছিল, সব তেমন থাকবে। অর্থাৎ কোটা
বাতিলসংক্রান্ত ২০১৮ সালের যে পরিপত্র কার্যকর ছিল, সেটা বহাল থাকবে।’ আগামী ৭
আগস্ট এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে।
আপিল বিভাগের
স্থিতাবস্থার পরও আন্দোলন অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা। তারা সংসদের বিশেষ অধিবেশন
ডেকে কোটার সংস্কার দাবি বাস্তবায়নের কথা বলছেন। রোববার শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি
আদায়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেন। এরপর দাবি আদায়ে ‘দৃশ্যমান পদক্ষেপ’ নিতে
সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে কোটা সংস্কার
আন্দোলনের মধ্যে ছাত্রলীগের তিন নেতা পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন—ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ শাখার গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন সম্পাদক মাছুম
শাহরিয়ার, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট শাখার মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক উপসম্পাদক
রাতুল আহামেদ ওরফে শ্রাবণ এবং আইন অনুষদ শাখার গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক আশিকুর
রহমান ওরফে জিম। তারা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।










