বগুড়ায় সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি না হলেও দাম কিছুটা কমেছে। অন্যান্য সবজির দামও আগের চেয়ে তুলনামূলক কমেছে। গতকাল রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, কলোনি ও খান্দার বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেজিপ্রতি আলুর দাম কমেছে ৮-১০ টাকা। কার্ডিনাল আলু কেজিতে ১০ টাকা কমে ৫০, লাল পাকরি আলু ৭০ থেকে কমে ৬৪ টাকা বিক্রি হয়েছে। ভারতীয় আলু বিক্রি হয়েছে ৪০-৪২ টাকা কেজি। অবশ্য ক্রেতারা বলছেন, এখনো আলুর দাম বেশ চড়া। আলুসহ অন্যান্য সবজির দাম আরো কমাতে হবে।

জানা যায়, সাম্প্রতি দেশের বাজারে আলুর দাম ৭০ টাকা কেজিতে দাঁড়ায়। ১২-১৫ টাকার আলু হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা দুর্ভোগে পড়েন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে কোল্ড স্টোরেজ পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ২৬-২৭ টাকা দরে বিক্রির কথা বলা হয়। একই সঙ্গে এ দামে আলু বিক্রি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়।

নির্দেশ পাওয়ার পরই জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম আলু ব্যবসায়ী ও  কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকারি নির্ধারিত দামে আলু বিক্রির জন্য বলেন। বৈঠকের পর বগুড়ার বাজারে কিছুটা হলেও আলুর দাম কমতে শুরু করে।

এদিকে বাজারে অন্যান্য সবজির দামও আগের চেয়ে তুলনামূলক কমেছে। প্রতিটি সবজি কেজিপ্রতি কমেছে ২০-৩০ টাকা। বগুড়ার বাজারে শীতকালীন সবজি ফুলকপি ৬০, বাঁধাকপি ৬০, সিম ১২০, বেগুন ৫০-৫৫, মুলা ৩০, পটল ৪০, পেঁপে ২৫, করলা ৫০, টমেটো ১২০, কাঁচামরিচ ১০০-১২০, কচু ৬০, শসা ৪০, লাউ ৬০ এবং লালশাক ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে সব ধরনের সবজির দাম ২০-৩০ টাকা বেশি ছিল। তবে নতুন করে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল দেশী পেঁয়াজ ১০০ ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ছিল ৬৫ টাকা কেজি।

বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সরকার আলুর দাম কোল্ড স্টোরেজ ও খুচরা পর্যায়ে বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু যে ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি করবেন না তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আলুর বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারিভাবে প্রতিটি জেলায় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা না মানলে কোল্ড স্টোরেজ সিলগালা করা হবে। আলুর বাজারে কোনোভাবেই অস্থিতিশীল করতে দেয়া হবে না।