দেশের ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোতে অস্থিরতা চলছে। পরিচালনা পর্ষদে
পরিবর্তন, নামে-বেনামে অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ, গ্রাহকদের চাহিদামতো টাকা না পাওয়া, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের
মাঝে পরস্পর বিরোধী অবস্থান, ঋণপ্রবাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সীমারেখাসহ নানা জটিলতা
তৈরি হয়েছে শরীয়াহভিত্তিক এ ব্যাংকগুলোতে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে
গ্রাহকদের পক্ষ থেকে সদস্য রাখার আহ্বান জানিয়েছেন গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে পর্ষদ
পুনর্গঠন করে আগের পরিচালকদের নিয়েই বোর্ড গঠন ও ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় ইসলামী মনোভাবাপন্ন
ব্যক্তিদেরকে যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (২৪ আগস্ট) ঢাকার এক হোটেলে শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর গ্রাহক
সমাবেশে এ আহ্বান জানান তারা। শরীয়াহ ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার গ্রাহক ফোরাম
এ সমাবেশের আয়োজন করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন,
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে বিজয় অর্জিত হয়েছে, সে স্বাধীন পরিবেশে এখন
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদেরকে এ ব্যাংকের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সোচ্চার হতে হবে।
ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা এবং কার্যক্রমে ইসলামী মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদেরকে যুক্ত
করতে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল
মজিদ বলেন, ইসলামী ব্যাংকে জবরদস্তিমূলক দখল এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের মাধ্যমে
দেশের এসএমই খাত তথা দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেমিট্যান্স প্রাপ্তির
হারও মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ব্যাংকের অর্থ পাচারকারীদেরকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে
হবে।
গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা ও ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে জবাবদিহিতা নিশ্চিত
করার লক্ষ্যে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট গ্রাহক ফোরাম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সভায়। দ্য ফেডারেশন
অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক পরিচালক
আব্দুল হককে আহ্বায়ক করে শিগগিরই ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে মত দেন তারা।










