সাগরে জাল ফেললেই উঠে আসছিল জেলিফিশ। এ কারণে জেলেরা মাছ ধরা কার্যত বন্ধই রেখেছিলেন। তবে এখন জেলিফিশের উপদ্রব কমে গেছে। জেলেদের জালেও ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। গত এক সপ্তাহে পটুয়াখালীর আলীপুর ও মহীপুরে কমপক্ষে দুই-তিন হাজার মণ ইলিশ বেচাকেনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আড়তদাররা। মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা পালন করার সুফল পাচ্ছেন জেলেরা।

সরজমিনে দেখা গেছে, মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেপল্লী ও কলাপাড়া উপজেলার দুটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র আলীপুর এবং মহিপুরে ফিরেছে কর্মব্যস্ততা। গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে দুই হাজার মণ ইলিশ মাছ বেচাকেনা হয়েছে। গত শনিবার সকালে এফবি আল্লাহর দয়া-১ নামের একটি ট্রলার ১৫০ মণ ইলিশ নিয়ে আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নোঙর করে। ওই ট্রলারে পর্যাপ্ত বরফ না থাকায় ২০ মণ ইলিশ মাছ যায়। বাকি ১৩০ মণ ইলিশ নিলামে ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।

মহিপুর মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ রাজা বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে সমুদ্রে ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য সামুদ্রিক মাছও পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের আগমুহূর্তে জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়ায় জেলে পল্লীতে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে।’

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে পালন হওয়ায় আগের চেয়ে সব ধরনের মাছের উৎপাদন বেড়েছে। সরকারি বিধিনিষেধ মানার সুফল পাচ্ছেন উপকূলের জেলেরা। বর্তমানে সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। আশা করছি, এবার বর্ষা মৌসুমে আরো বেশি ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়বে।’