পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে বাড়তি পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষক নিয়োগ দিয়ে অর্থ সংকটে পড়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। এ সংকটে ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন বিল এখনো পরিশোধ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের এ বিল পরিশোধে প্রয়োজন প্রায় ৭ কোটি টাকা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট খাতে জমা আছে ৫ কোটি টাকা। অন্য খাত থেকে বাড়তি এ টাকা সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বছর ঘুরে গেলেও উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিল না পাওয়ায় বোর্ড কর্তৃপক্ষকে দুষছেন পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষকরা। তবে বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুতই তাদের বিল ছাড় করা হবে।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষকদের বিল এখনো পরিশোধ করা হয়নি। ২০২৩ সালের এইচএসসির জন্য এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৯৮৬ জন পরীক্ষক বিল জমা দিয়েছেন। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা পাঁচ হাজারেরও বেশি। এখনো অনেকে বিল জমা দেননি। উত্তরপত্র মূল্যায়নসহ সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যয় নির্বাহে ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু ওই ফান্ডে ৫ কোটির মতো টাকা জমা আছে।
সূত্র জানায়, যেকোনো পাবলিক পরীক্ষার ফরম পূরণের সঙ্গে সঙ্গেই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা নির্ধারণ হয়ে যায়। আর ফরম পূরণ করার সময় ফির সঙ্গে খাতা দেখার নির্ধারিত টাকাও জমা নিয়ে নেয়া হয়। ফলে উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত অর্থে ঘাটতি দেখা দেয়ার কথা নয়। অথচ এ ফান্ডে এখনো প্রায় ২ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। মন্ত্রণালয় যদিও কোনো অর্থ দেয় না, বোর্ডের নিজেদের আয় থেকে সব শোধ করার নিয়ম থাকলেও বার্ষিক খরচের প্রাক্কলন অনুমোদন করে নিতে হয়। তবে অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কারণে বোর্ডের ব্যয়ও বেড়েছে।
তবে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আহসান হাবীব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পরীক্ষার্থী বেড়েছে, পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের ফিও বেড়েছে। এ কারণে বাজেটের চেয়ে বাড়তি অর্থ প্রয়োজন হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুতই শিক্ষকদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের ফি পরিশোধ করা হবে।’
প্রধান পরীক্ষক সহকারী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান জানান, তিনি ৩ হাজার ৮০০টি উত্তরপত্র পেয়েছিলেন। এখনো বরাদ্দকৃত অর্থ পাননি। তবে তার মতো অনেকেই খাতা দেখার বিল ঈদের আগে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।










