চটগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেলের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী ২৮ অক্টোবর প্রকল্পটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানেলে যানবাহন চলাচলে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে অত্যাধুনিক স্ক্যানার বসানোর কথা থাকলেও দেরিতে সরবরাহে তা বাস্তবায়ন হয়নি। বিকল্প হিসেবে আন্ডার ভেহিকল সার্ভিলেন্স সিস্টেম (ইউভিএসএস) বসিয়ে টানেলে যানবাহন চলাচল উন্মুক্ত করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। তবে উদ্বোধনের আগে ১০টির মধ্যে দুটি স্ক্যানার বসানোর কাজ চূড়ান্ত করেছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। ২৫ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ড থেকে আমদানি করা এসব স্ক্যানার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছবে।
চলতি বছরের মাঝামাঝি স্ক্যানার সরবরাহের কথা ছিল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু যথাসময়ে প্রস্তুত না হওয়ায় তা কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ ১৫ আগস্ট ইংল্যান্ডের বন্দর থেকে দুটি স্ক্যানার শিপমেন্ট দেয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভারেক্স ইমেজিং। শ্রীলংকার কলম্বো বন্দর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার পর এগুলো সরাসরি কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গা ও আনোয়ারা প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হবে।
টানেল কর্তৃপক্ষ জানায়, এরই মধ্যে ইউভিএসএস বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। স্ক্যানার বসানোর জন্য বিশেষায়িত রেডিয়েশন প্রতিরোধী কাঠামো নির্মাণকাজ চলছে। বন্দরে কনটেইনার কিংবা ভারী যানবাহন স্ক্যানিং কার্যক্রমের মতোই টানেলে প্রবেশের মুখে ট্রাক, লরিসহ পণ্যবাহী যানবাহন পরীক্ষার জন্য স্ক্যানারগুলো ব্যবহার করা হবে। স্ক্যানারগুলো সরবরাহ করছে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউটর।
প্রকল্পের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, স্ক্যানারের দুটি ধাপ হয়েছে। প্রথম ধাপে ভারী যানবাহনের চালকসহ স্ক্যান করা হবে। যেখানে স্বল্প মাত্রার অর্থাৎ মানবদেহের জন্য সহনীয় রেডিয়েশন প্রয়োগে স্ক্যান করা হবে। ওই সময়ে স্ক্যানারে সবুজসংকেত দেয়া হবে। এরপর চালক নেমে গেলে স্ক্যানারের ক্যানোপি অংশের মাধ্যমে যানবাহনের পেছনের অংশে উচ্চমাত্রার রেডিয়েশন দিয়ে খোলা পণ্য কিংবা যেকোনো আবরণ দেয়া পণ্যও স্ক্যান করা হবে।
জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশীদ চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্ক্যানার বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে শেষ মুহূর্তে। যার কারণে সরবরাহ দিতে বিলম্ব হওয়ায় উদ্বোধনের আয়োজন হয়ে গেছে। টানেল এখন যানবাহন চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে উদ্বোধনের আগে দুটি স্ক্যানার বসানো সম্ভব হবে। বাকি স্ক্যানারগুলো পর্যায়ক্রমে বসানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। স্ক্যানার বসিয়ে উদ্বোধন হলে টানেল প্রকল্পের আর কোনো অসম্পূর্ণতা থাকবে না।’
প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্বোধনের আগে অর্থাৎ জুনের মধ্যেই স্ক্যানার বসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু মূল ডিপিপিতে না থাকার কারণে স্ক্যানার তৈরির কার্যাদেশ প্রদানে দেরি হয়। এরই মধ্যে আনোয়ারা প্রান্তে দুটি ও পতেঙ্গা প্রান্তে তিনটি ইউভিএসএস বসানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, টানেল স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হওয়ায় স্ক্যানার বসানো জরুরি। তাছাড়া আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগে টানেলের নিরাপত্তায় ঝুঁকি এড়াতে ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে স্ক্যানার ছাড়া বিকল্প নেই। তবে শুরুতে যানবাহনের চাপ বেশি হলে দুটি স্ক্যানার দিয়ে ভারী যানবাহন পরীক্ষা করা সময়সাপেক্ষ হবে। সেক্ষেত্রে টানেলে প্রবেশের আগেই ভারী যানবাহনগুলোয় কিছুটা সময় ব্যয় করতে হলেও উভয় প্রান্তে ১০টি স্ক্যানার বসানো হয়ে গেলে এ সমস্যা কেটে যাবে বলে মনে করছেন তারা।
স্ক্যানার আমদানি, সরবরাহ ও স্থাপনে বিলম্বের বিষয়ে সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, টানেলের উভয় প্রান্তে স্ক্যানার বসানোর সিদ্ধান্ত ছিল না। প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীতে স্ক্যানার বসানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের মূল বাজেটে এটি যুক্ত না করে টানেলের টোল আহরণে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্ক্যানার বসানোর চুক্তি করা হয়। টোল আহরণ, রক্ষণাবেক্ষণ, স্ক্যানার বসানো ও স্ক্যানার পরিচালনায় বছরব্যাপী একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাবে চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি)। এ বাবদ সিসিসিসিকে পাঁচ বছরে ৯৮৩ কোটি ৮২ লাখ ৬২ হাজার ১৬৬ টাকা দেবে সেতু কর্তৃপক্ষ।










