পরিবেশবান্ধব, টেকসই নগরায়ণ এবং পরিকল্পিত ও সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আগ্রহের কথা জানিয়েছে ভারত।

রোববার (২ জুন) বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সঙ্গে সচিবালয়ে তার দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসে এ আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন,  ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত বাংলাদেশকে ব্যাপক সহযোগিতা করেছে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির পেছনেও ভারতের ভূমিকা রয়েছে। বন্ধুপ্রতিম দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার আরো অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের যোগাযোগ কাঠামো উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেশের প্রকৌশলীদের উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তাছারা আবাসন খাতে ভারতের রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরো অনেক বিষয় রয়েছে যেখানে দুই দেশ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে উভয় দেশ উপকৃত হবে।

আলোচনায় ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে ভারতের বিস্তর অভিজ্ঞতা রয়েছে। গ্রিন বিল্ডিং টেকনোলজি, দুর্যোগ ঝুঁকি সহনীয় স্থাপনা নির্মাণসহ আবাসন খাতে ভারত বাংলাদেশ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশী প্রকৌশলীদের পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণে ভারতে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে বলে জানান।

বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সহযোগিতার বিদ্যমান ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করে  আরো কার্যকরভাবে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। তিনি ভারতের সহযোগিতায় স্মার্ট সিটি গড়ে তুলতে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়া যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে বলে জানান তিনি। ভারতীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব সক্রিয় বিবেচনা এবং সাদরে গ্রহণ করা হবে বলে মন্ত্রী আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎ শেষে তিনি মন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। মন্ত্রী তাকে ধন্যবাদ জানান।