গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে তুসুকা গ্রুপের কয়েকটি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দাবিতে গত শনিবার থেকে কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। তাদের সব দাবি পূরণ না হলে লাগাতার কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তারা। এ অবস্থায় ছয়টি কারখানায় তিনদিনের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল সকালে শ্রমিকরা কারখানা ফটকে ছুটির এ নোটিস দেখতে পান। এ সময় তারা ঘণ্টাখানেক কারখানা ফটকে অবস্থান করে বাড়ি ফিরে যান।

কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ার পরও আন্দোলন করছেন। তারা বহিরাগতদের ইন্ধনে এ আন্দোলন করছেন।

তুসুকা গ্রুপের পরিচালক মো. তারেক হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শ্রমিকদের যেসব দাবি ছিল, তা পুরোপুরি মেনে নিয়ে আমরা নোটিস দিয়েছিলাম। আমরা কোনো শ্রমিক ছাঁটাই করি না এবং শ্রম আইন অনুযায়ী সবকিছুই করা হয়। শ্রমিকদের দাবির পেছনে বহিরাগতদের ইন্ধন রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানাগুলোয় তিনদিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।’

ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলো হচ্ছে তুসুকা জিন্স লিমিটেড, তুসুকা ট্রাউজার্স, তুসুকা ডেনিম, তুসুকা প্রসেসিং, তুসুকা ওয়াশিং ও তুসুকা প্যাকেজিং লিমিটেড।

কারখানা গেটে সাঁটানো নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, কারখানার ভেতরে সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ না থাকার কারণে ২১-২৩ এপ্রিল পর্যন্ত তিনদিন সাধারণ ছুটি হিসেবে কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

এদিকে বিভিন্ন দাবিতে গত শনিবার থেকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করছেন। রোববার সকাল ৮টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেন তারা। গত শনিবার সকালে কর্মবিরতি শুরু করলেও পরে কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা। বেলা ২টা থেকে আবারো একই দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন। বিকাল ৫টার দিকে কারখানা ছুটি হয়ে গেলে শ্রমিকরা বাসায় চলে যান।

শ্রমিকদের দাবি, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) কাঠামো অনুযায়ী বেতন কাঠামোর শতভাগ গ্রেডিং করতে হবে। এছাড়া ঈদের ছুটি সাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য করা যাবে না, বর্ষিক পিকনিকের আয়োজন করতে হবে, স্বজনপ্রীতি চলবে না, কারখানায় যোগদান অনুযায়ী ছুটির টাকা দিতে হবে, যে পাওনা রয়েছে তা চলতি মাসে পরিশোধ করতে হবে। শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করাসহ বেশকিছু দাবি জানিয়ে শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন।

এ ব্যাপারে কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. সালাউদ্দিন জানান, তুসুকা গ্রুপের ছয়টি কারখানায় তিনদিনের ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল সকালে শ্রমিকরা কারখানায় এসেছিলেন। ছুটির নোটিস দেখে কিছুক্ষণ অবস্থান করে বাসায় চলে যান। তবে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। কারখানা ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।