বাগেরহাটের নয়টি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১ হাজার ১৬২টি। এর মধ্যে ৩৭৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। যদিও ২১৫টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। বাকি ১৬০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ পুরোপুরি খালি।
শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্কুল পরিচালনা করছেন। ফলে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কাজ এবং পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। মামলার জটিলতার কারণে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আটকে রয়েছে বলে জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
বাগেরহাট সদর উপজেলার দড়িতালুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অবকাঠামোগতভাবে পরিপূর্ণ থাকলেও প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়া বিদ্যালয়টিতে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় অন্য বিদ্যালয় থেকে ডেপুটেশনে শিক্ষক এনে পাঠদান করাতে হচ্ছে। শুধু দড়িতালুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, বাগেরহাট পৌরসভার উত্তর হঁাড়িখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও নেই প্রধান শিক্ষক। এভাবে কয়েক শত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকরা (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি স্কুলও পরিচালনা করছেন। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যালয়গুলোয় প্রধান শিক্ষক পদায়নের দাবি জানান অভিভাবকরা।
উত্তর হঁাড়িখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শারমিনা হক হীরা বলেন, ‘একজন অভিভাবক ছাড়া বিদ্যালয় চলতে পারে না। ভারপ্রাপ্ত দিয়ে কার্যক্রম দায়সারাভাবে চালানো গেলেও তা পরিপূর্ণ হয় না।’
দড়িতালুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রিতা কুণ্ডু বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছি। দুই বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। একই সঙ্গে একাডেমিক ও দাপ্তরিক কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এতে শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, ‘৩৭৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকলেও ২১৫টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। বাকি ১৬০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ পুরোপুরি ফাঁকা। পদোন্নতি দেয়ার জন্য কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু শিক্ষকদের একটি অংশ আদালতের আশ্রয় নেয়ার কারণে কার্যক্রম বারবার ব্যাহত হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’










