সাগরে মাছ ধরায় টানা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। রাত থেকে আবারো শুরু হয়েছে মাছ ধরা। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় জেলেরা আবারো সাগরে মাছ আহরণের সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় দুই মাস ধরে বেকার হয়ে ছিল উপকূলীয় এলাকার জেলেপাড়ার বাসিন্দারা। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকার জেলেপাড়াগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালে নিবন্ধিত জেলেদের সরকার থেকে সহায়তা দেয়া হয়েছে।

তবে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সরকারি সহায়তা দেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন জেলেরা। নিবন্ধিত জেলের সংখ্যার তুলনায় অনিবন্ধিত জেলের সংখ্যাই বেশি হওয়ায় দুমাস কষ্টে কেটেছে অনেক জেলেরই। আবার নিবন্ধিত হওয়ার পরেও সরকারি সহায়তা পৌঁছায়নি অনেক জেলের কাছে।

 

সাহেরখালী ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার সম্ভু জলদাশ বলেন, উপজেলায় অনেক জেলে রয়েছে। নিবন্ধিত হয়েছে কিছু সংখ্যক। যারা নিবন্ধিত হয়েছে তারা নিষেধাজ্ঞার সময় সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। বেশিরভাগ জেলে পরিবারের দুমাস কষ্টে দিন কেটেছে। ৪৩১ জেলে পরিবার নিবন্ধন থাকার পরও সরকারি সহায়তা পাননি।

মিরসরাই উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নাসিম আল মাহমুদ বলেন, ইলিশের প্রজননকালীন দীর্ঘ ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বর্তমানে মাছের উৎপাদন বাড়ছে। এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারলে বঙ্গোপসাগর একটি সমৃদ্ধ মৎস্য ভান্ডারে পরিণত হবে।

তিনি আরো বলেন, সোমবার (২৩ জুলাই) রাত ১২টায় ৬৫ দিনের সাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে জেলেরা সব প্রস্তুতি নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে গেছে।

মৎস্যসহ মূল্যবান প্রাণীজ সম্পদ সুরক্ষায় গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের জন্য বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার। ইলিশের জাটকা নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সফলতাকে অনুসরণ করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি চিংড়ি, কাঁকড়ার মতো অন্য মাছ আহরণেও ছিল এ নিষেধাজ্ঞার আওতায়।