ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসের ভেতর জব্বারের মোড়ে অবস্থিত ঢাকা-ময়মনসিংহগামী রেলপথের একটি লেভেল ক্রসিং দুই বছর ধরে অরক্ষিত। বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। দুর্ঘটনা এড়াতে লেভেল ক্রসিংটি সুরক্ষিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর আরো তিনটি স্থানে চলাচলের সড়ক থাকলেও কোনো লেভেল ক্রসিং নেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। ঘটছে ছোট ছোট দুর্ঘটনা। ক্যাম্পাসে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে লেভেল ক্রসিংগুলো। কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় হতাশ শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জব্বারের মোড়ে থাকা লেভেল ক্রসিংয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা দেয়ার জন্য এক পাশে কার্যকর ব্যবস্থা থাকলেও অন্য পাশে অকার্যকর। ট্রেন আসার আগে গেটম্যান এক পাশে ব্যারিকেড দিতে পারেন। অন্য পাশে পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ি আটকান তিনি। এর পরও অনেকে ঝুঁকি নিয়েই লেভেল ক্রসিং পার হচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, ছোট একটি উদ্যোগ বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারে। লেভেল ক্রসিংটি সংস্কারের উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিলেই ঝুঁকিমুক্ত হবে এ এলাকা। কিছু মানুষের কাজের অবহেলায় জীবন নষ্ট হোক, তা কারো কাম্য নয়। জব্বারের মোড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। এমন ব্যস্ততম স্থানে লেভেল ক্রসিং দীর্ঘসময় বিকল থাকা মেনে নেয়া যায় না। শিক্ষার্থী ও পথচারীদের নিরাপত্তায় অবিলম্বে রেলগেট মেরামত জরুরি। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন চালু করাও এখন সময়ের দাবি।
কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টেশন থাকা সত্ত্বেও তিন যুগের বেশি সময় সেখানে কোনো ট্রেন থামে না, এটা নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই, কষ্ট শুধু শিক্ষার্থীদের।
আশরাফ হোসেন নামের একজন শিক্ষার্থী বলেন, স্টেশনটি চালুর বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগ করে কেবল আশ্বাসই মিলেছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। চাকরিপ্রার্থী প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিয়মিত ঢাকায় যাওয়া-আসা করতে হয়। এতে প্রতিনিয়ত বাড়তি ভাড়া দেয়া, সময়মতো ট্রেনে উঠতে না পারাসহ নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন চালু করা শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে কেওয়াটখালী লোকোশেডের উপসহকারী প্রকৌশলী কবির হোসেন রানা বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। লেভেল ক্রসিংয়ে গেট প্রতিস্থাপনে টেন্ডার এখনো হয়নি। এজন্য আমরা এটি মেরামত করতে পারিনি। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাঁশের মাধ্যমে একটি অস্থায়ী ক্রসিং গেট স্থাপন করা হবে।
ক্যাম্পাসের এমন অনিরাপদ লেভেল ক্রসিংয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহির উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. একেএম জাকির হোসেন জানান, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। বিষয়টি আমারও নজরে আসেনি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিচ্ছি, যাতে দ্রুত এটি সংস্কার করা হয়।










