অত্যাধুনিক চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ২০১৫ সালে ৮৮২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ দশমিক ৯০ একর জায়গার ওপর সিরাজগঞ্জ শহরের পাশেই শিয়ালকোল এলাকায় মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ হয়। চিকিৎসার আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকলেও ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই) যন্ত্র নেই হাসপাতালটিতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্দিষ্ট সময়ে এমআরআই যন্ত্র সরবরাহ করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ কারণে বঞ্চিত হচ্ছে সেবা নিতে আসা রোগীরা।
রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের শমশের আলী বলেন, ‘চিকিৎসক তাকে এমআরআই করার পরামর্শ দেন। স্বল্প খরচে তিনি এমআরআই করার জন্য শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে জানতে পারেন এমআরআই যন্ত্র নেই। এত বড় হাসপাতাল অথচ এমআরআই যন্ত্র নেই! হাসপাতালে এমআরআই মেশিন না থাকায় আমাদের মতো গরিব মানুষের বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. কৃষ্ণ কুমার পাল বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমআরআই মেশিন সরবরাহ করেনি। ঠিকাদার প্রতারণা করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখন সে পলাতক। চুক্তি ও নিয়মানুযায়ী এমআরআই মেশিন ক্রয় বাবদ ঠিকাদার নিরাপত্তা জামানত হিসেবে ১৪ কোটি ২ লাখ ২০ হাজার টাকার পেমেন্ট অর্ডার জমা দিয়েছেন দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোড শাখায়। ব্যাংকে রাখা নিরাপত্তা জামানত প্রকল্প পরিচালকের হিসাবের অনুকূলে ছাড় করার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দেয়া হয়েছে। তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না, টাকা ছাড় করছে না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা ছাড় না করায় এমআরআই যন্ত্রটি ক্রয় করা যাচ্ছে না।’
এ বিষয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংক ধানমন্ডি সাতমসজিদ রোড শাখার ব্যবস্থাপক তোহিদুজ্জামান তুহিন জানান, ঘটনাটি তিনি যোগদানের আগে ঘটেছে। এছাড়া এ বিষয়ে মামলা হয়েছে, এখানে আইনের বিষয়টি জড়িত রয়েছে। এ ব্যাপারে ব্র্যাঞ্চ পর্যায়ে আর কিছু করার নেই। পুরো বিষয়টি প্রধান কার্যালয়ের এখতিয়ারে।










