তৈরি পোশাক খাতের প্রায় সব কারখানায় শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিজিএমইএ। সংগঠনটির তথ্যমতে, বিজিএমইএ তালিকাভুক্ত কারখানাগুলোর মধ্যে ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ৯১ দশমিক ৮১ শতাংশ ঈদ বোনাস প্রদান সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কারখানাগুলোতেও আজকের মধ্যে পাওনা পরিশোধের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। এমনকি ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ কারখানা মার্চ মাসের বেতনের আংশিক পরিশোধ করে দিয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এসব কথা বলেন। দেশের পোশাক শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পোশাক খাতের বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, ‘শিল্পটি এখন এক কঠিন সময় পার করছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রফতানি আয় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার হার ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে এবং পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য হ্রাস পেয়েছে ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের বিষয়ে সভাপতি জানান, বিগত পাঁচ বছরে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হয়নি। এর সঙ্গে উচ্চ সুদের হার এবং ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট উদ্যোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, "‘নগদ প্রবাহের তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে উদ্যোক্তারা ব্যক্তিগত তহবিল ও ঋণের মাধ্যমে বেতন-বোনাস পরিশোধ করছেন।"আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও প্রায় ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ কারখানা এরইমধ্যে মার্চ মাসের বেতনের আংশিক পরিশোধ করে দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের সহযোগিতার বিষয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "বর্তমান ব্যবসা-বান্ধব সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় ২,৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা দ্রুততম সময়ে ছাড় করা হয়েছে। সাধারণত তিন মাসের বকেয়া দেয়া হলেও এবার পাঁচ মাসের সমপরিমাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।"সরকার আগামী ঈদের আগে আরো পাঁচ মাসের নগদ সহায়তা ছাড়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
মহাসড়কের যানজট ও চাপ কমাতে এবার এলাকাভিত্তিক ধাপে ধাপে ছুটি দেয়ার পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ১৭ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ কারখানায় ছুটি হয়েছে এবং বাকিগুলো আজ ও কালকের মধ্যে ছুটি ঘোষণা করবে। ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পরিবহন মালিক ও চালকদের সতর্ক থাকার এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বিজিএমইএ সভাপতি।
বিজিএমইএ নেতারা জানান, প্রতি বছর ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়, তা নিরসনে তারা সরকারের কাছে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা পেশ করবেন। এছাড়া ব্যবসা পরিচালনা সহজ, খরচ কমানো এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উন্নয়ন দ্রুত করার বিষয়েও সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সভাপতিত্বে প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি (অর্থ)মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক নাফিস- উদ- দৌলা, পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান, পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম, পরিচালক এ.বি.এম. সামছুদ্দিন, ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী, পরিচালক রুমানা রশীদ, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল,পরিচালক সামিহা আজিম এবং বিজিএমইএ এর জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির ও ওয়ান স্টপ সেলের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ভূইঁয়া।










