বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের ফাঁকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গতকাল ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের সৌজন্য সাক্ষাতের সময় এ আগ্রহ প্রকাশ করা হয় বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন নিয়ে মতবিনিময় করে এবং অধিবেশনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা করে। তারা বিশেষভাবে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আলোচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন, যাতে দীর্ঘস্থায়ী এ বিষয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা যায়।
মাইকেল মিলার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইইউর দীর্ঘদিনের পারস্পরিক কল্যাণকর অংশীদারত্বে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং বহুমুখী সম্পৃক্ততা আরো জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। হুমায়ুন কবির বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে ইইউর ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বহুপক্ষীয়তাবাদ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ঢাকার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইইউর গঠনমূলক সম্পৃক্ততারও প্রশংসা করেন তিনি। এর মধ্যে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন মোতায়েন এবং চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ায় ইইউর সহায়তার বিষয়টিও রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরো গভীর করার উপায় নিয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করে। এ সময় বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে প্রাথমিক অগ্রগতির বিষয়টিও উঠে আসে।
অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়েও বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য অব্যাহত মানবিক সহায়তা দেয়ায় প্রতিমন্ত্রী ইইউকে ধন্যবাদ জানান।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন ও এসডিজি অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য: হুমায়ুন কবির
বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহুপক্ষীয় অংশীদারত্বের ওপর জোর দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। গতকাল ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
এতে জনস্বাস্থ্য জোরদার, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, রোগ প্রতিরোধ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অব্যাহত সহযোগিতা ও সমর্থনের প্রশংসা করেন হুমায়ুন কবির। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের লক্ষ্যগুলো এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি এসডিজি অর্জনের গতি ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো ও কার্যকর বহুপক্ষীয় অংশীদারত্ব অপরিহার্য।’
ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, রোগ পর্যবেক্ষণ (ডিজিজ সার্ভিল্যান্স) ও জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার প্রস্তুতিসহ বাংলাদেশে সংস্থার চলমান কার্যক্রম ও পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
ভুটানের গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটির উন্নয়নে সহায়তা দিতে আগ্রহী ঢাকা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভুটানের গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি (জিএমসি) উন্নয়নে বাংলাদেশ থেকে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধাদক্ষ জনশক্তি পাঠানোর মাধ্যমে অবদান রাখার বিষয়ে ঢাকার গভীর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কার্মা হামু দর্জির সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ভুটানের রাষ্ট্রদূত প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে নিয়োগ পাওয়ায় অভিনন্দন জানান।










