সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনলাইনে নারীর সক্রিয়তা কমে গেছে। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সর্বশেষ গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রতি চারজন নারীর মধ্যে দুজন অনলাইন সহিংসতার চাপে তাদের উপস্থিতি কমাতে বাধ্য হয়েছেন।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘নিরাপদ নগরী, নির্ভয় নারী’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এ তথ্য জানানো হয়। ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে ১৬ দিনের জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ক্যাম্পেইন। এ আয়োজনের লক্ষ্য, নিরাপদ নগরী গড়ার দাবিকে নাগরিক আন্দোলনে পরিণত করা।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত গবেষণা তথ্য বলছে, ২০২১-২২ সালে অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা ৬৩ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে গণপরিবহনে হয়রানির শিকার হয়েছেন ২২ শতাংশ নারী। এছাড়া ভয় বা আশঙ্কা নিয়ে বাইরে বের হন ৬৩ শতাংশ নারী।

আয়োজনে নাটক মঞ্চস্থ করা হয়
আলোচনায় বক্তারা বলেন, গণপরিবহন থেকে অনলাইন পর্যন্ত সব জায়গায় নারীরা ঝুঁকিতে আছেন। সহিংসতা বাড়ার কারণ হিসেবে তারা জবাবদিহিতার অভাব ও বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে তুলে ধরেন।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, অনলাইন বা অফলাইন— দুই ক্ষেত্রেই নারীর নিরাপত্তাহীনতা এখন কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পকলার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে নারীদের সংগ্রাম ও সাহসের গল্প নিয়ে ‘স্টোরিজ অব কারেজ’ শীর্ষক আউটডোর পারফরম্যান্স অনুষ্ঠিত হয়। পরে মিলনায়তনে ‘একোজ অব হার লাইফ’ নামে নাটক মঞ্চস্থ হয়। এতে গণপরিবহনসহ পাবলিক স্পেসে নারীদের হয়রানির অভিজ্ঞতা দেখানো হয়।
অ্যাকশনএইডের নারী অধিকার ও জেন্ডার সমতা টিমের লিড মরিয়ম নেসা নগরীতে অনলাইন ও অফলাইন নিরাপত্তার চিত্র তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানিয়া হক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার ফারহানা ইয়াসমিন, ইউএনডিপির জেন্ডার টিম লিড শারমিন ইসলাম, চলচ্চিত্র নির্মাতা ফখরুল আহমেদ খান, মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক জেসমিন আরা, ডিএনসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এস এম শফিকুর রহমানসহ নীতিনির্ধারক, নগর পরিকল্পনাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা আইন প্রয়োগে কঠোরতা, জেন্ডার-সংবেদনশীল নগর পরিকল্পনা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি ও শিক্ষা পাঠক্রমে জেন্ডার সচেতনতা অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন। উপস্থিত বিভিন্ন সংস্থা একযোগে জানান, সহিংসতা রোধে প্রশাসন, নীতি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা জরুরি।










