ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে বুধবার শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। আনন্দ নেই ভবদহের সুবাস চন্দ্র মল্লিকের পরিবারে। বাড়ির চারপাশে পানি আর পানি। বারান্দা থেকে রাস্তা পর্যন্ত বাঁশের সাঁকো। সেটা দিয়েই চলাচল করতে হয়। উঠানে কোমর সমান পানি। যশোরের অভয়নগর উপজেলার রাজাপুরে পাকা টিনের বাড়িতে ১০ সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস তার। এবার পূজায় পরিবারটিতে নেই আনন্দ আয়োজন। তাদের কাছে এখন বেঁচে থাকাটাই যেন পরম আনন্দের।
বাড়িতে পূজার আয়োজন নিয়ে জানতে চাইলে সুবাশের স্ত্রী সূর্যবালা মল্লিক বলেন, ‘বাড়ি থাকতে পারছি না, তার ওপর পূজার আয়োজন! বাড়ির যা অবস্থা, পূজার উৎসব নেই মনে। এখন কী করে বাঁচব; কী করে দুটো রান্না করে খাব সেটাই চিন্তা করছি।’
শুধু সুবাশ নয়, হিন্দু-অধ্যুষিত ভবদহ অঞ্চলের বেশির ভাগ বাড়িতেই পূজার আনন্দ নেই। যে কয়েকটি স্থানে হচ্ছে, সেটিও সীমিত।
যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল। ভবদহ এলাকায় ১৯৬১ সালে নির্মাণ করা হয় স্লুইসগেট। এর পরই মণিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর এবং খুলনার ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার মধ্যবর্তী ভবদহের কৃষকরা জলাবদ্ধতার কবলে পড়েন। ১৯৮৮ সাল থেকে স্থায়ীভাবে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। কারণ ভবদহের ভাটিতে থাকা নদীগুলোর নাব্য হারানো। এ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে কয়েক দশকে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ১৯৯০ থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ভবদহ ঘিরে নেয়া ২১টি প্রকল্পে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। তার পরও নিরসন হয়নি জলাবদ্ধতা। সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে আবারো দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।
প্রতি বছর জমকালো আয়োজনে দুর্গোৎসব হয় রাজাপুর সর্বজনীন মণ্ডপে। সেখানে দেখা গেছে, মণ্ডপের চারপাশে কোমর সমান পানি। ভেতরেও হাঁটুসমান পানি। পড়ে রয়েছে এ বছরের প্রতিমা তৈরি করার অসম্পূর্ণ কাঠামো।
তবে ভিন্ন চিত্র রয়েছে কয়েকটি স্থানে। বালি দিয়ে উঁচু করে অস্থায়ী মণ্ডপ করতে দেখা গেছে। সেখানে সীমিত পরিসরে চলছে পূজার আয়োজন।










