আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল মোনেমের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২০ সালের ৩১ মে ৮৩ বছর বয়সে ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আব্দুল মোনেমের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম মাইনউদ্দিন মোনেম বলেন, ‘যোগ্য পিতার পথ ধরে এগিয়ে চলার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় রয়েছি আমরা। আব্বার সম্বন্ধে বলতে গেলে অনেক কিছু বলার আছে। তবে প্রথমেই বলব দেশ ও জাতির কল্যাণে আমার আব্বা মোনেম শিল্প গ্রুপ তৈরি করেছেন, সেটি অনবদ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশজুড়ে সুখ্যাতি অর্জন করেছে। দেশ ও জাতির কল্যণে তিনি সমস্ত জীবন উৎসর্গ করেছেন। যে কাজটিই করতেন ভালো করে করতেন, যে প্রকল্পটি হাতে নিতেন তা দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতেন। ধারাবাহিকভাবে এ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি যে প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করেছেন তা দেশজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে।’
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা আব্দুল মোনেম ১৯৩৭ সালের ৫ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেশায় প্রকৌশলী ছিলেন। ১৯৫৬ সালে আব্দুল মোনেম লিমিটেড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানটির পথচলা শুরু অবকাঠামো নির্মাণকাজের মধ্য দিয়ে।
পরে খাদ্য, পানীয়, চিনি পরিশোধনাগার, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল, ফার্মাসিউটিক্যালসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারিত করেন আব্দুল মোনেম। একে একে তিনি গড়ে তোলেন ইগলু আইসক্রিম, এএম বেভারেজ, আব্দুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল, ম্যাংগো পাল্প প্রসেসিং, ইগলু ফুডস, ইগলু ডেইরি লিমিটেড, আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি, এম এনার্জি লিমিটেড, নোভাস ফার্মাসিউটিক্যাল, এএম এসফল্ট অ্যান্ড রেডিমিক্স লিমিটেড, এএম অটো ব্রিক্স, এএম রাইস ব্র্যান অয়েল কোম্পানি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান। কোকা-কোলা (এএম বেভারেজ লিমিটেড) এবং ইগলু তার হাতে প্রতিষ্ঠিত দেশবরেণ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম। এসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি মানুষ কর্মরত।
মাইনউদ্দিন মোনেম আরো বলেন, ‘আব্বা যে সুখ্যাতি বা সুনাম অর্জন করেছেন, এর পেছনে তার অক্লান্ত পরিশ্রম, ন্যায়, সততা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব সর্বোপরি দেশের প্রতি ওনার একটা কমিটমেন্ট ছিল, এটাই হলো সবচেয়ে বড় বিষয়। স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবকাঠামো ক্ষেত্রে আব্বার অবদান রয়েছে। নিজের কমিটমেন্টের প্রতি সবসময় দৃষ্টি ছিল। ওনার সবসময় লক্ষ থাকত যে, যেই কাজ করবেন সেই কাজে সবার ওপরে থাকবেন। সেজন্য তিনি সবচেয়ে ভালো মানের কাঁচামাল, সরঞ্জাম ব্যবহার করতেন।’
ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন আব্দুল মোনেম ফাউন্ডেশন। নিজ গ্রাম বিজেশ্বরে প্রায় ৫২ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বেশ কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।










